Tips and tricks

কেন ইসরাইল গাজায় বোমা হামলা চালায় সিজ ফায়ারের মধ্যে ?

গত ১৫ জুন বুধবার রাতে ইসরাইল গাজায় বোমা হামলা চালায় সিজ ফায়ার চলাকালীন সত্ত্বেও।

কিন্তু কেন?

কিছুদিন আগে ইসরাইলের প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নাফতালি বেনেট এর সরকার ক্ষমতায় আসে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে যিনি ২০০৯ এর ৩১ মার্চ থেকে ২০২১ এর ১৩ জুন পর্যন্ত ১২ বছরেরও অধিক সময় ধরে ক্ষমতায় ছিলেন।

নেতানিয়াহু ও তার লিকুদ পার্টি সরে গিয়ে নাফতালি বেনেট এর পার্টি ইয়ামিনা ইসরাইলের ক্ষমতায় আসার তিন দিনের মাঝেই ২০২১ এর ১৫ জুন গাজা উপত্যকাতে বম্বিং এর এ ঘটনা ঘটে।

নাফতালি বেনেট এর পরিচয়

নাফতালি বেনেট
নাফতালি বেনেট

নাফতালি বেনেট হলেন সেই ব্যাক্তি যিনি বলেছিলেনঃ

আমার জীবনে আমি অনেক আরবকে হত্যা করেছি এবং তাতে আমি কোন সমস্যা দেখি না।

নাফতালি বেনেট

তিনি আরও বলেছিলেনঃ

ফিলিস্তিনি বন্দিদেরকে মুক্ত নয় হত্যা করা উচিৎ।

নাফতালি বেনেট

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র সম্পর্কে তার দুটি বিখ্যাত বানীঃ

ইসরাইলের এই ক্ষুদ্র জমির মধ্যে কোন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হচ্ছে না। একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হলে সেটি আগামী ২০০ বছরের জন্য বিপর্যয় হবে।

নাফতালি বেনেট

আমি আমার সক্ষমতার মাঝে সবকিছুই করবো যাতে করে ফিলিস্তিনিরা কখনই রাষ্ট্র না পায়।

নাফতালি বেনেট

আশা করি তার পরিচয় এখানেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে সকলের কাছে!

গাজায় বোমা হামলা চালানোর কারন

গাজায় বোমা হামলা
গাজায় বোমা হামলা

এবারে ইসরাইলের কাছে গাজায় বোমা হামলা চালানোর জন্য ক্লিয়ার কাট একটি এক্সকিউজ আছে।

অবশ্য প্রতিবারই কিছু না কিছু থাকে এক্সকিউজ।

হামাস গাজা থেকে দক্ষিন ইসরাইলের দিকে বেলুন পাঠায়।

আপনারা হয়তো চিন্তা করছেন বেলুন পাঠালে কি আসে যায়?

বেলুনের জবাব বোমা দিয়ে দিতে হবে!

আসলে…

বেলুন বোমা বা অগ্নি বেলুন

হামাস যে বেলুন ইসরাইলে পাঠিয়েছিলো সেটি একধরনের বোমা বহন করে নিয়ে যায় এবং এই ধরনের বেলুনকে বলা হয় ইনসেনডিয়ারি বেলুন বা বেলুন বোমা। একে আরসন বেলুন বা অগ্লি বেলুনও বলা হয় যেহেতু এই বোমার মূল উদ্দেশ্য থাকে লক্ষ্যবস্তুতে অগ্নিকান্ড করা। এধরনের বেলুন বোমা সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে টার্গেটের দিকে যায় এবং সেখানে গিয়ে পে লোড বা বেলুনে বহন করা বস্তু অর্থাৎ বোম ফেলে দেয়।

নিঃসন্দেহে বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র এবং এয়ারস্ট্রাইক ওয়ারফেয়ারের এই যুগে এটা অত্যন্ত প্রাচীন একটি পদ্ধতি।

অগ্নি বেলুন বা বেলুন বোমার ইতিহাস

১৭৯২ সালে অগ্নি বেলুন

সর্ব প্রথম এই বেলুন বোমার প্রস্তাব ১৭৯২ সালে করেন ফ্রান্স এর ইনভেন্টর ও বেলুনিস্ট জোসেফ মাইকেল মন্টগলফিয়ের…

তার প্ল্যান ছিল মূলত ফ্রান্সের টুঁলনে অবস্থিত ব্রিটিশ ফোর্স ও জাহাজের উপর বেলুনের মাধ্যমে বোমা বর্ষণ করার।

১৮০৭ সালে অগ্নি বেলুন

১৮০৭ সালে ডেনমার্ক হাতে চালিত একটি ড্রিজেবল বা বেলুন শিপ তৈরির চেষ্টা করে যা দিয়ে ডেনমার্ক এর কোপেন হেগেন ব্লক করে রাখা ব্রিটিশ জাহাজগুলোকে বম্বিং করা যেতে পারে।

১৮৪৬ সালে অগ্নি বেলুন

১৮৪৬ সালে ব্রিটিশ বোর্ড থেকে সেমুয়েল আলফ্রেড ওয়ারনার এর করা এধরনের বম্বিং সিস্টেম এর একটি ডিজাইন ইমপ্র্যাকটিকাল হবার কারনে রিজেক্ট করে দেওয়া হয়।

কয়েক বছর পর হেনরি ট্রেসি কোক্সওয়েলের এই বিষয়ক প্রচেষ্টাও বাতিল করে দেওয়া হয়।

১৮৪৭ সালে অগ্নি বেলুন

১৮৪৭ সালে জন ওয়াইজ মেক্সিকান-আমেরিকান ওয়ারে বেলুন বোমা ব্যাবহারের প্রস্তাব দেন।

১৮৪৯ সালে অগ্নি বেলুন

১৮৪৯ সালে অস্ট্রিয়া থেকে ফ্রান্সের ভেনিসে মানব জাতির জানা ইতিহাসের মধ্যে সফলভাবে সর্ব প্রথম বেলুন বোমা ব্যাবহার করা হয়।

২য় বিশ্বযুদ্ধ ও শীতল যুদ্ধে অগ্নি বেলুন

এছাড়াও এরপর ২য় বিশ্বযুদ্ধ এবং এমনকি কোল্ড ওয়ারের সময়েও বেলুন বোমা এর এই পদ্ধতি ব্যাবহার করা হয়

পরবর্তীতে ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান এসকল ক্ষেত্রে মানব জাতির টেকনোলোজি এতোই উন্নত হয়ে যায় যে বেলুন বোমা হয়ে পড়ে অপ্রয়োজনীয় ও আউটডেটেড…

অবশ্যই এই বেলুন বোমা এমনকি সাধারণ একটি রকেটের মতো এতো দ্রুত গতিসম্পন্ন ও শক্তিশালী নয়…

কিন্তু আমাদের মানতেই হবে যে এই প্রাচীন অস্ত্র প্রযুক্তি ইসরাইলের অতি আধুনিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম আয়রন ডোমকে তা ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে।

একারনেই বলা হয়…

ওল্ড ইজ গোল্ড

ইসরাইলে অগ্নিকান্ড

ইসরাইলে অগ্নিকান্ড
ইসরাইলে অগ্নিকান্ড

ইসরাইলি সংবাদ মাধ্যম অনুসারে গাজার বর্ডারে ইসরাইলি বসতির ২০ টি ভিন্ন স্থানে আগুন লাগে মঙ্গলবার এবং বুধবারে আরও ৪ জায়গায় আগুন লাগে।

আগুনের কোন হতাহতের ঘটনার ঘটেনি।

তদন্তকারীরা সিদ্ধান্ত দেয় যে এই আগুনের উৎস গাজা থেকে আকাশপথে এসে ইসরাইলে অগ্নিকান্ড ঘটায়।

তারপরে ইসরাইলের আর খুব বেশি এক্সকিউজ লাগেনি ঢিলের জবাব পাটকেল দিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে আকাশপথে বোম দিয়ে দেওয়ার জন্য।

এবং এভাবে করেই সিজ ফায়ারের মধ্যেও শুরু হয় ইসরাইলের নতুন সরকারের গাজায় বোমা হামলা।

কেন হামাস ইসরাইলে আক্রমন করতে গেলো?

কিন্তু এখন প্রশ্ন হল যে সিজ ফায়ারের মধ্যে কেন হামাস এই কাণ্ডটি করতে গেলো?

কেন তারা শান্তির মধ্যে ইসরাইলে আক্রমন করতে গেলো?

তারাই তো তাহলে দেখা যাচ্ছে যে শান্তি ভঙ্গ করেছে।

কিন্তু…

অনেক সময় যা দেখা যায় তা হয় না এবং যা হয় তা দেখা যায় না

আসলেই কি শান্তি বজায় ছিল?

যতদূর বোঝা যাচ্ছে নতুন ইসরাইলের নতুন সরকারের উস্কানির কারনেই হামাস এই কর্মটি করেছে।

ইসরাইলিদের ডানপন্থি অর্থাৎ যারা মূলত ফিলিস্তিনিদের উপর বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে চান অথবা আরও খারাপ কিছু করতে চান তাদের একটি মিছিল বের হয় মঙ্গলবার রাতে।

তারা জেরুজালেমের ফিলিস্তিন অঞ্চলগুলোর উপর দিয়ে মিছিল করে বর্তমান সরকারের মধ্যে অবস্থিত আরব এবং বামপন্থী দলগুলোর তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও।

ইসরাইলিদের এই দলটিই সেই দল যারা মঙ্গলবার দিনের বেলা দামেস্ক গেটে গিয়ে শ্লোগান দেয়ঃ

আরবেরা মরুক

তোমাদের গ্রাম গুলো জ্বলুক

ভিতরে ভিতরে আরও অনেক কিছু হয়েছে কিনা জানি না তবে বেশ খারাপ রকমের প্রভোকেসন যে এখানে হয়েছে সেটা বোঝা যাচ্ছে বেশ ভালোভাবেই।

সিক্রেটস অব জায়োনিজম

ইসরাইলিদের মূল উদ্দেশ্য যে আসলে কি সেটা বুঝতে চাইলে হেনরি ফোর্ড এর সিক্রেটস অব জায়োনিজম বইটি পড়ে দেখতে পারেন।

সিক্রেটস অব জায়োনিজম PDF Download Free
সিক্রেটস অব জায়োনিজম PDF Download Free

ADR Dider

Best bangla pdf download, technologies tips,life style and bool, movie,smartphone reviews site.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Close

Ad blocker detected

Plz turn off your ad blocker to continue in this website...