islamic books

আবু ত্বহা নিখোঁজ বনাম পরিমনি ধর্ষণ

পরিমনি ধর্ষণ কেসে হাহা দেওয়া ও ট্রল করা নিয়ে সচেতনতামূলক পোস্ট দিবো নাকি আবু ত্বহা নিখোঁজ সম্পর্কে পোস্ট দিবো?

সুশীলেরা হয়তো বলবেন যে দুটি বিষয় নিয়েই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

কিন্তু…

দুটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দেওয়া যাবে না।

কেন যাবে না?

সে সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে আমি পরিমনির ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে আলোচনা করতে যাবো না…

জিজ্ঞাসাও করতে যাবো না যে…

  • কেন সে এতো রাতে বিরুলিয়ার মতো একটা জায়গায় গিয়েছিল…?
  • কেন সে বারে যায় যেখানে এলকোহল কনজাম্পসন করা হয়…?
  • কেন সে মিডিয়াতে নিজেকে এভাবে প্রদর্শন করে…?
  • কেন সে এমন ধরনের সার্কেলের সাথে চলাফেরা করে…?
  • কেন মিডিয়াতে এতো দিন ধরে চলাফেরার পরেও তার এসম্পর্কিত বোধ বুদ্ধির উদয় হয়নি…?
কাঁদলেন পরিমনি
কাঁদলেন পরিমনি

কেন আলোচনা করবো না…?

কারন…

পরিমনির মতো মানুষেরা এমন এক উচ্চতার মানুষ যেখানে এগুলো খুবই সিম্পল ব্যাপার…

বারে কেন যাচ্ছো বা কেন নিজের দেহ প্রদর্শন করছ এ সম্পর্কে কোন প্রশ্ন করা যাবে না কারন আমরা একটি সেকুলার কানট্রিতে বসবাস করি। এখানে ক্রিয়েটরের থেকে আমাদের দুর্নীতি মুক্ত দুধে ধোয়া তুলসি পাতা রাজনীতিবিদেরা ভালো বুঝে কিভাবে দেশ এবং মানুষের জীবন চালাতে হয়।

সুতরাং…


সেকুলার একটি দেশে থেকে এসব বিষয়ে উচ্চবাচ্য করলে জঙ্গি ট্যাগ খেয়ে যেতে হয় এবং ধর্ষণ ইস্যুতে ভিক্টিম ব্লেমিং এর তকমা।

আমি পরিমনিকে ব্লেইম করছি না যেহেতু আমার টেলিপ্যাথিক পাওয়ার নেই এবং জানি না তার মনের ভিতর কি আছে।

এবং ধর্ষককে সমর্থন দেওয়ারও কিছু নেই কারন ক্লিয়ারলি তারা সমাজের জঞ্জাল যা নিয়মিত পরিস্কারের উপর রাখতে হয়।

অতএব…

এধরনের সকল আলোচনা বাদ দিয়ে আমি মূল তিনটা পয়েন্ট উল্লেখ করবোঃ

১) পরিমনি ধর্ষণ অপরাধের বিচার

পরিমনি ধর্ষণ কেইসের জন্য গত ১৪ জুন ২০২১ সোমবার সাভার থানায় ৫ জনকে আসামী করে নির্যাতন ও ধর্ষণ চেষ্টা অভিযোগে মামলা করে হয়। সোমবারি নাসির ইউ মাহমুদ ও অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু জনাব আবু ত্বহা নিখোঁজ হবার পর আসামীদের ধরা পড়া তো দূরে থাক তাকে এবং তার ৩ সহকর্মীকে কারা, কেন, কিভাবে কি করেছে সেটা পর্যন্ত আমরা জানি না…

অথচ সেই ১৪ তারিখেই ৫ দিনের উপরে হয়ে গিয়েছে তাদের কোন খোঁজ নেই…

পড়ুন আবু ত্বহা নিখোঁজ হয়েছিলেন কেন?

২) মিডিয়া কভারেজ

বাংলাদেশের মূলধারার মিডিয়া কভারেজ সম্পূর্ণ পরিমনিকে নিয়ে এবং অখ্যাত কিছু মিডিয়া ছাড়া আর কেউ আবু ত্বহা নিখোঁজ হবার ব্যাপারে টুঁ শব্দও করছিল না…

এমনকি টক সোগুলোতে পর্যন্ত মানব জাতির বুদ্ধিমান সদস্যরা পরমনিকে বাংলাদেশের প্রখ্যাত (!) একজন শিল্পী হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাঁর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছিল…

কিন্তু আমাদের আবু ত্বহা নিখোঁজ এর ঘটনা নিয়ে আলোচনা কোথায়…?

৪ টা মানুষ গুম হয়ে গেলো, তাদেরকে টর্চার করা হল নাকি মেরে ফেলা হল এবং তাদেরকে খোঁজা নিয়ে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কিনা সেটা নিয়ে কোন প্রকারের কিছু নিয়ে তারা বললেন না…

পরিমনি ধর্ষণ সংবাদ যুগান্তর
পরিমনি ধর্ষণ সংবাদ যুগান্তর

পরিমনি ধর্ষণ কেইসের আসামীরা ধরা পড়ার পরের দিন অর্থাৎ ১৬ জুন ২০২১ অবশেষে আবু ত্বহা নিখোঁজ হবার ব্যাপারে প্রেস কনফারেন্স করতে পারেন তাঁর স্ত্রী…

চিন্তা করুন পরিমনির হাউকাউ চলাকালীন অবস্থায় প্রেস কনফারেন্স করলে সেটা মানুষজনের নজরে আসতো…?

মিডিয়া কাভারেজ আসতো…?

প্রেস কনফারেন্স তো অবশেষে হল কিন্তু ৬ দিনের উপরে পার হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে…

তাহলে বাকি রইল কি?

বাকি রইল…

সোশ্যাল মিডিয়া কভারেজ

কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়াতে কি চলছে…?

পরিমনি ধর্ষণ ইস্যু অবশ্যই…!

পরিমনি ইস্যুতে দুইটা গ্রুপ ভাগ হয়ে গিয়েছে…

একদল পরিমনিকে রাত বিরেতে বারে গিয়ে ধরা খাওয়ার জন্য ফেসবুকে ট্রলের বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছে…

আর অন্যদল পরিমনির পোস্টে হাহা দিয়ে, ট্রল করে বাঙ্গালী কি নোংরা মেন্টালিটির পরিচয় দিচ্ছে সে বিষয়ে মুখে/আঙুলে ফেনা তুলে ফেলছে…

কিন্তু…

আমাদের আবু ত্বহা…?

আবু ত্বহা নিখোঁজ হওয়া সম্পর্কিত সকল পোস্ট আর এক্সপোজার তো এই বন্যার ফেনার মধ্যে হারিয়ে গিয়েছে…

MEME by Farhan Mashuk Shakir
আবু ত্বহা নিখোঁজ

এরপর আছে বাংলাদেশের নিউজ পোর্টাল এবং ইউটিউব…

ফেসবুক হল বাংলাদেশের মূলধারার সোশ্যাল মিডিয়া…

দেশের অধিকাংশ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া বলতে ফেসবুকই বুঝে এবং এটাই চালায়।

স্মার্ট ফোন প্রত্যেকের হাতে হাতে চলে আসায় এখন বাংলাদেশের বাচ্চা কাচ্চাদেরও ফেসবুক একাউন্ট থাকে।

ফেসবুকে ট্রেন্ড যা চলে নিউজ পোর্টালগুলো সেটাই কভার করে যাতে করে সেধরনের খবর ফেসবুকে পোস্ট ও এড দিয়ে মানুষের নজর কাড়াতে সুবিধা হয়…

এবং বেশিরভাগ বাংলা ইউটিউব চ্যানেলের জন্যও তা প্রযোজ্য…

কিন্তু একজন আবু ত্বহাসম্পর্কে গুটি কয়েক মানুষ কথা বলার চেষ্টা করছে এবং সেটাও এইসব খবরের বন্যায় হারিয়ে যাচ্ছে…

মানুষ সিম্পলি একজন আইটেম তারকার ব্যাপারে ডিবেট করতে পছন্দ করছে একজন দ্বীনের পথে ডাকা ইসলামিক স্কলারের জীবন মরন সমস্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকার থেকে…

পড়ুন আবু ত্বহা কি আসলেই আত্মগোপনে ছিলেন?

৩) আবু ত্বহার জীবন মরন সমস্যা

You can kill the people, but you can't kill the truth. - Ustad Abu Taw Haa Muhammad Adnan
আবু ত্বহা মুহাম্মাদ আদনান

একটি পোস্টে বাঙ্গালীর হাহা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইস্যু তৈরি হতেই পারে।

বিশেষ করে সেটা যদি অ্যাটেম্পট টু রেইপ কেসের মতো একটি সেনসিটিভ ইস্যু নিয়ে হয়।

কিন্তু…

সেটা ৪ জন মানুষের জীবন মরন সমস্যার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না।

বিশেষ করে পরিমনির আসামীরা ধরা পড়ে যাবার পর আরও নয়।

একদিকে পোস্টের হাহা দেওয়া নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা এবং ট্রলিং ও অন্যদিকে ৪ জন মানুষের গুম হয়ে যাওয়া ও তাদের পরিবারের ঘুম হারাম…

কোনটার প্রায়োরিটি আসলে বেশি?

আমি একজন মুসলিম

সম্পূর্ণ প্র্যাকটিসিং মুসলিম না এটা স্বীকার করি তবে আমি চেষ্টা করছি বিন্দু বিন্দু করে নিজেকে ইমপ্রুভ করার।

এবং একজন মুসলিম হিসেবে আমার কাছে বাংলাদেশের ফিল্ম ইনডাসট্রিতে কর্মরত দেশের একজন প্রখ্যাত (!) অভিনেত্রীর থেকে একজন নলেজেবল ইসলামিক স্কলার বেশি প্রায়োরিটি পাবেন।

কারন…

একদিকে শেইখ আবু ত্বহা আদনান যিনি গুছানো বক্তব্য ও নলেজ শেয়ারিং এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের আদর্শ হিসেবে কাজ করছেন।

ভবিষ্যতের কাণ্ডারি এই তরুণ প্রজন্মকে তিনি করছেন উজ্জীবিত।

অন্যদিকে…

পরিমনি যিনি বাংলাদেশের মুভি ইনডাসট্রিতে নিজেকে বিভিন্ন উপায়ে অন স্ক্রিন ও অফ স্ক্রিনে শো কেইস করে কোন এক অদ্ভুত উপায়ে দেশ ও দশের উপকার করছেন!

তিল পরিমাণ ইসলামিক স্পিরিট আছে এমন কারও জন্য এমনকি উপরের তিনটি পয়েন্ট এরও প্রয়োজন হতো না!

কিন্তু…

সমস্যা হল…

বাংলাদেশের সেকুলার সমাজ

আমরা এমন একটি সেকুলার সমাজে বসবাস করি, যেখানে মানুষের সো কল্ড ব্যাক্তি স্বাধীনতাকে প্রায়োরিটি দেওয়া হয় ভবিষ্যতের ফলাফলের কথা চিন্তা না করেই।

যেহেতু আমরা সেকুলার সমাজে বসবাস করি যেখানে সমাজ মানুষের আচরনের মধ্যে লাগাম টেনে ধরে সামাজিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যার্থ, একারনেই পরিমনির ব্যাক্তিগত প্রেজেন্টেশন বা উদ্দেশ্য নিয়ে আমি আলোচনা করিনি। কারন মূল সমস্যা আমাদের সমাজ কাঠামোর এবং সকলে এখন অন্ধের মতো সেকুলারিজমের দিকেই ছুটছে।

কিন্তু পরিমনি ধর্ষণ বিষয়টিতে এক্সেসিভ আলোচনার ফলে ১৫ তারিখ পর্যন্ত আবু ত্বহা গুম হবার ব্যাপারটা জাস্ট ধামা চাপা পড়ে রয়েছে গত ৫ দিনের বেশি সময় ধরে।

অথচ পরিমনির কেইস আরও পরে হয়েও কত দ্রুত এক্সপোজার পেলো এবং কত দ্রুত আসামী ধরা পড়ে গেলো।

ধিক্কার সেই সমাজ ব্যাবস্থাকে যা নাসির ইউ মাহমুদ এর মতো মানুষদেরকে পয়দা করে এবং এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে যেখানে আমাদের এই ধরনের নোংরা একটি ঘটনা নিয়ে আমাদের আলোচনাও করতে হয় যা ঘটা উচিতই ছিল না কখনও।

সঠিক নৈতিক শিক্ষার অভাব এবং দেশ পরিচালনায় সেকুলারিজমের উপস্থিতি আমাদের সমাজকে নিয়ে এসেছে এমন অধপতনের দ্বারপ্রান্তে।

ধন্যবাদ

Tags

ADR Dider

Best bangla pdf download, technologies tips,life style and bool, movie,smartphone reviews site.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Close

Ad blocker detected

Plz turn off your ad blocker to continue in this website...