bangla pdf books

রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেন নি pdf download

নাম :- রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেন নি 

লেখক:- মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। 

পৃষ্ঠা:- ৩৬৭। 

রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেন নি pdf download সাইজ:- ৮২এম্বি।

নাজিম উদ্দিনের রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেন নি pdf download বইয়ের প্রথম অংশ :-  

মু খ ব রূ:-

রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেন নি pdf download গন্ধটা যেনাে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলাে তাকে। ট্যাক্সিক্যাবের দরজা খুলে মাটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে টের পেলাে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে অদ্ভুত একটি গন্ধ। এ জীবনে নেয়া যতাে গন্ধ আছে তার মধ্যে এটি একেবারেই অজ্ঞাত। এর মধ্যে যে সম্মােহনী ক্ষমতা রয়েছে সেটাও টের পেলাে খুব দ্রুত।

টানা চার-পাঁচ ঘণ্টা ক্যাবে করে ভ্রমণ করার পর এমনিতেই খিদেয় পেট চৌ চৌ করছিলাে, প্রলুব্ধকর গন্ধে সেটা যেনাে বিস্ফোরণের মতাে ছড়িয়ে পড়লাে এবার। তার থেকে মাত্র বিশগজ দূরে, রাস্তার পাশে রেস্টুরেন্টটি দেখতে পেয়ে সানগ্লাস খুলে ভালাে করে তাকালাে। সাইনবাের্ডে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে অদ্ভুত আর অপ্রচলিত নামটি। দুই ঠোঁটে চেপে রাখা জ্বলন্ত সিগারেটে জোরে টান দিলাে সে। রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেন নি pdf download link!! 

পা বাড়ানাের আগে ট্যাক্সি ক্যাবের দিকে ফিরে তাকালাে। ড্রাইভার জানালা দিয়ে মাথা বের করে রেখেছে। তার সাথে চোখাচোখি হতেই মাথা নেড়ে সায় দিলাে লােকটি। চলে যাবার ইশারা করতেই হুস্ করে শব্দ তুলে ট্যাক্সিক্যাবটি চলে গেলাে।

সামনে যে রেস্টুরেন্টটি দাঁড়িয়ে আছে সেটা গর্বসহকারেই জানান দিচ্ছে : রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেন নি ! একদম সত্যি কথা। আমিও কখনও এখানে আসতাম না, যদি… বুক ভরে গন্ধটা নিয়ে সামনের দিকে পা বাড়ালাে সে।রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেন নি pdf download link!!! 

মহাসড়কের পাশে চমৎকার একটি বাংলাে বাড়ির মতাে একতলার এই রেস্টুরেন্টটির সামনে লম্বা বারান্দা, সেই বারান্দার উপরে সবুজ রঙ করা টিনের ছাউনি। বড় বড় ফ্রেঞ্চ জানালা আর নক্সা করা বিশাল একটি কাঠের দরজা-এক নজরেই জায়গাটা মানসপটে স্থান করে নেবে। রাস্তার পাশে এমন চমৎকার রেস্টুরেন্ট খুব কমই আছে। 

মহাসড়কের পাশে যেসব রেস্টুরেন্ট থাকে সেগুলাে মূলত যাত্রিবাহী বাসের স্টপেজ হিসেবে কাজ করে। বড়বড় বাস-সার্ভিস কোম্পানি নিজেরাই কিছু রেস্টুরেন্টের মালিক। ওগুলাের সামনে বিশাল খালি জায়গা রাখা হয় বাস-কোচ পার্ক করার জন্য কিন্তু এই অদ্ভুত রেস্টুরেন্টটি সে-রকম নয়। এর সামনে যে খােলা জায়গাটি আছে সেখানে বড়জোর দশ-বারােটি প্রাইভেটকার রাখা যাবে। সম্ভবত দূরপাল্লার কোনাে বাস-কোচ এখানে রাখা হয় না। তাহলে কোথায় রাখা হয়?

জবাবটা পেয়ে গেলাে রেস্টুরেন্টের বামদিকে । রবীন্দ্রনাথের এক-দেড়শ’ গজ দূরে একটি পেট্রলপাম্প। সেখানে অনেকগুলাে বাস-ট্রাক-কোচ দাঁড়িয়ে আছে।

চারপাশে তাকিয়ে রেস্টুরেন্টের দিকে নজর দিলাে আবার। এ মুহূর্তে সামনের প্রাঙ্গণে সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকার আর কালাে রঙের মাইক্রোবাস ছাড়া কিছু নেই।

দুপুর গড়িয়ে গড়িয়ে হামাগুড়ি দিয়ে বিকেলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সবকিছু যেননা ঝিমিয়ে পড়েছে এখানে। মহাসড়কটিও অলসভাবে পড়ে আছে। মৃত সাপের মতাে। অনেকক্ষণ পর পর দুয়েকটা বাস-ট্রাক যাচ্ছে-আসছে তার উপর দিয়ে। রেস্টুরেন্টের আশেপাশে ডােবা-নালা আর ধানক্ষেত । পেছনে, বহু দূরে একটি গ্রামীণ জনপদ। বিস্তীর্ণ ক্ষেতের মাঝে গুচ্ছ-গুচ্ছ কৃষকের বসতবাড়ি ।

সরু একটি পথ চলে গেছে সেই বসতবাড়িগুলাের দিকে। মেঠোপথের দু-ধারে প্রচুর আবাদি-জমি। মাঝে-মাঝে ছােটো-বড় ডােবা-নালা, পুকুর, খাল। চারদিকে তাকালে সবুজ প্রান্তরে আকাশ মিশে যাবার সেই চিরায়ত দৃশ্য চোখে পড়ে।

বারান্দার কাছে এসে একটু থেমে সুখটান দিয়ে সিগারেটটা ছুড়ে ফেলে দিলাে। ধূমপান

নিষেধ লেখা সাইনের পাশেই নক্সা করা বিশাল দরজা, সেটা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই থমকে গেলাে কয়েক মুহূর্তের জন্য। হালকা ভলিউমে রবীন্দ্রসঙ্গীত ভেসে বেড়াচ্ছে। অবাক হলাে না সে। এটা প্রত্যাশিতই ছিলাে, বিশেষ করে এরকম নামের একটি রেস্টুরেন্টে।

ঘরের ভেতরে নজর দিলাে এবার। সাজসজ্জা আর পরিবেশ একদমই আলাদা। টেবিল-চেয়ারগুলাে একটু ভিন্নভাবে সাজানাে। এক একটা রাউন্ড টেবিল ঘিরে আছে তিন থেকে চারটা করে চেয়ার। এরকম পাঁচ-ছয়টি টেবিল আছে ঘরে। সর্বোচ্চ বিশ-পঁচিশজন বসতে পারবে। এই বিশাল জায়গাটি যতাে কাস্টমার ধারণ করতে পারে তার অর্ধেকের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মালিক যেনাে স্পষ্ট একটি বার্তা দিচ্ছে সবাইকে : আমি নিছক টাকা কামানাের জন্য রেস্টুরেন্টের ব্যবসা করি না। আমি যেটা করি সেটা এক ধরণের শিল্প।রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেন নি pdf download link!!  

শীতের এই পড়ন্ত বিকেলে মাত্র দুটো টেবিলে পাঁচ-ছয়জন কাস্টমার আয়েশ করে খাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে দীর্ঘ ভ্রমণপথে বিরতি দিয়ে খেয়ে নিচ্ছে এরা। অন্য কারাের কাছ থেকে এই হােটেলের সুনাম শুনে চলে এসেছে হয়তাে।

তাকে ঢুকতে দেখে কিছু কাস্টমার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে নিলাে, তবে খুব বেশিক্ষণের জন্য নয়, আবারাে মনােযােগ দিলাে নিজেদের সামনে রাখা সুস্বাদু খাবারের দিকে। চারপাশে তাকিয়ে কোনাে ওয়েটার দেখতে পেলাে না। একটু এগিয়ে গিয়ে সামনের একটি টেবিলে বসে পড়লাে সে। বেশ আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা। সাধারণত রেস্টুরেন্টগুলাে এরকম আরামের ব্যবস্থা করে না।

হাত-পা ছড়িয়ে বসা যায় এখানে। সে-ও তাই করলাে। দীর্ঘ ভ্রমনে সারা শরীর আড়ষ্ট হয়ে আছে। রেস্টুরেন্ট হিসেবে জায়গাটা অদ্ভুত। টেবিলে কোনাে মেনু নেই। এটাও অদ্ভুত। কোনাে ওয়েটারও চোখে পড়ছে না। একেবারেই ব্যতিক্রমী দৃশ্য।

আশেপাশে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। ভেতরের উত্তর দিকে ছােট্ট একটা দরজা আছে, ওটা দিয়ে হয়তাে ভেতরের কোনাে ঘরে যাওয়া যায়। দরজার পাশেই রয়েছে ছােট্ট একটা জানালা। গাঢ়-কালচে কাঁচের কারণে ভেতরটা দেখা যাচ্ছে না।

পশ্চিম দিকে ফিরলাে। আরাে দুটো দরজা আছে। সাইন দেখে বুঝতে পারলাে ওগুলাে ওয়াশরুম, নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যে। খুট করে শব্দ হতেই চমকে তাকালাে সে। তার পেছনে, ঠিক ডানদিকে এক যুবক দাঁড়িয়ে আছে। ওয়েটার। হাতে খাবারের মেনু না থাকলে একজন কাস্টমার হিসেবেও ভুল হয়ে যেতে পারতাে।রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেন নি pdf download link!! 

“মেনু দিয়ে গেলাম,” বললাে ছেলেটা। “আপনি দেখুন। অর্ডার করার দরকার হলে আমি চলে আসবাে।” আর কোনাে কথা না বলে চলে গেলাে সে। 

এই ওয়েটার কিভাবে বুঝবে কখন আমার অর্ডার করার দরকার হবে? ভাবলাে সে। আজব। মেনুর দিকে চোখ গেলাে । অন্যসব রেস্টুরেন্টের মতাে আইটেমের বাহুল্য নেই, আবার যে নামগুলাে দেখতে পাচ্ছে তার বেশিরভাগই অপরিচিত। । সম্ভবত, চেনা-জানা খাবারগুলাে নতুন করে নামকরণ করেছে।

এরা মেনুতে কিছু আইটেম আলাদা করে চিহ্নিত করা আছে মুশকান’স স্পেশাল’ হিসেবে।।

মুশকান’স কারি।

মুশকান’স সিক্রেসি!

মুশকান’স সুপ অব লাইফ!

মুশকান’স হাইব্রিড ক্র্যামচপ!

মুশকান’স গােল্ডেন ড্রিঙ্কস!

মুশকান’স জাস্ট টি!

মুশকান জিনিসটা কি? এটা কি কোনাে অ্যারাবিয়ান-পার্সিয়ান খাবারের নাম? যেমন লেবানিজ শওয়ার্মা?

সে বুঝতে পারলাে এই রেস্টুরেন্টটি রহস্য সৃষ্টি করতে পারঙ্গম, আর সেটা প্রকাশ করতে একেবারেই অকপট। রহস্য! আমি সেটা ভেদ করতেই এসেছি, মনে মনে বললাে সে। 

মেনু থেকে চোখ সরিয়ে আশেপাশে তাকালাে। ওয়েটারের কোনাে দেখা নেই । এতাে বড় রেস্টুরেন্ট অথচ একজনমাত্র ওয়েটার! তা-ও আবার ভুতের মতাে নাজেল হয়, চোখের সামনে থাকে না।

উত্তর দিকে দরজা খুলে সেই ওয়েটারকে বের হয়ে আসতে দেখলাে সে। তার কাছে এসে বললাে, “জি, স্যার…বলেন?”

“আমি লম্বা জার্নি করে এসেছি,..পেট ভরে খেতে পারি এরকম কি খাওয়া যেতে পারে? তােমাদের মেনু দেখে তো কিছুই বুঝতে পারছি না।” ওয়েটারের মুখে কোনাে হাসি নেই, বরং কাস্টমারের কথা শুনে কিছুটা অসন্তুষ্ট হয়েছে মনে হলাে। “আপনি ভাতের সাথে মাংস কিংবা ফিশ-কারি নিতে পারেন, সাথে স্পেশাল কিছু?”

“স্পেশাল মানে মুশকান জাতীয় কিছু?”

তার কথার মধ্যে যে শ্লেষ আছে সেটা ওয়েটারকে রুষ্ট করলাে। “জি, সে-রকমই কিছু, কাটাকাটাভাবে বললাে সে।

“এই মুশকান জিনিসটা কি? অ্যারাবিয়ান নাকি পার্সিয়ান কুইজিন?”

ওয়েটার কয়েক মুহূর্ত চেয়ে রইলাে কাস্টমারের দিকে। “আপনি আমাদের এখানে প্রথমবার এসেছেন মনে হয়?” সৌজন্যমূলক হাসি দিলাে ছেলেটি। “এটা একটা নাম, স্যার।”

“কিসের নাম?”

“আমাদের এই রেস্টুরেন্টের মালিকের নাম। উনিই আমাদের সব মেনু তৈরি করেছেন।”

“মেনু তৈরি করেছেন মানে?” “উনি একজন শেফ…বলতে পারেন, অসাধারণ একজন শেফ।”

“ও,” মাথা নেড়ে কয়েক মুহূর্ত ভেবে নিলাে কাস্টমার। এরকম প্রত্যন্ত অঞ্চলে একজন মহিলা রেস্টুরেন্ট চালাচ্ছে, সে নিজে আবার শেফ? অসাধারণ শেফ! “আচ্ছা, ভাতের সাথে তাহলে কি নিতে পারি?” চিন্তা-ভাবনা বাদ দিয়ে খাবারের দিকে মনােযােগ দিলাে। তার খিদে অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেন নি pdf download link!

“মুশকান’স কারি নিতে পারেন? বিফ কারি?” “তাহলে তাই দাও।”

“ওকে, স্যার।”

ওয়েটার আর কিছু না বলে চলে যাচ্ছে দেখে সে অবাকই হলাে।

“শােনাে?” পেছন থেকে ডাকলাে তাকে।

ঘুরে দাঁড়ালাে ছেলেটা । “জি?”

“সাথে ডাল কিংবা ভাজি দিলে ভালাে হয়…তােমাদের মেনুতে ওরকম কিছু”

“ডাল আর কয়েক ধরনের ভর্তা পাবেন, স্যার,” তার কথার মাঝখানে বলে উঠলাে ওয়েটার। “ওগুলাে আমরা রাইসের সাথে এমনিই দেই।”

“ও,” ভুরু কপালে তুলে বললাে সে। “ঠিক আছে।” “আপনার যা যা লাগবে বলবেন, সমস্যা নেই।” ওয়েটার সােজা চলে

গেলাে বন্ধ দরজাটার দিকে।

দূরে বসে থাকা তিনজন কাস্টমারের দিকে তাকালাে সে। এরা নিশ্চয় একসঙ্গে বেড়াতে যাচ্ছে কোথাও | লােকগুলাে এমন আয়েশ করে খাচ্ছে, দেখে মনে হচ্ছে দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ খাবারের আস্বাদন করছে তারা। চুপচাপ খাচ্ছে আর একে অন্যের দিকে তাকিয়ে প্রশংসার দৃষ্টিতে ভাব বিনিময় করছে। রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেন নি। 

ব্যাপারটা দেখার মতাে। যেনাে প্যান্টো মাইম করছে একেকজন। পােশাকআশাক দেখে মনে হচ্ছে বেশ শিক্ষিত আর ধনী, হাতের আঙুল চেটে চেটে খাওয়ার মতাে লােক নয় কোনােভাবেই কিন্তু এ মুহূর্তে তাই করছে। অতাে দূর থেকেও ঐ টেবিলের খাবারের সুস্বাদু গন্ধ তার নাকে এসে লাগলাে। অদ্ভুত আর সম্মােহনী এক গন্ধ । রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেন নি pdf download

উঠে দাঁড়ালাে সে। এইমাত্র অর্ডার দিয়েছে, নিশ্চয় খাবার আসতে কমপক্ষে দশ-পনেরাে মিনিট লাগবে । ওয়েটারের গদাইলস্করি চাল দেখে মনে হচ্ছে আরাে বেশিও লাগতে পারে। এই ফাঁকে একটু ফ্রেশ হয়ে নেয়া যাক।

তাই আর দেরী না করে রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেন নি pdf download  বইটি ডাউনলোড করতে নিচের ডাউনলোড বাটন এ ক্লিক করুন।             

Size:- 82MB

রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেন নি pdf download  বইটির হার্ড কফি ক্রয় করুন। 

Rokomari.com | Amazon.com | Boibazar.com | bookiecart.com

রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেন নি বইটির রিভিউ দিতে (ক্লিক_করুন)

Tags

ADR Dider

Best bangla pdf download, technologies tips,life style and bool, movie,smartphone reviews site.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Close

Ad blocker detected

Plz turn off your ad blocker to continue in this website...