sadat hossain

মেঘেদের দিন pdf download by sadat hossain

মেঘেদের দিন pdf book download…

বই:Megheder din bangla pdf/ মেঘেদের দিন pdf. 

Megheder din/মেঘেদের দিন pdf→লেখক :- Sadat hossain books→সাদাত হোসাইন

প্রকাশনায়: অন্যপ্রকাশ

প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ

পৃষ্টা সংখ্যা:-৯৭

মেঘেদের দিন pdf সাইজ:- ১৬এম্বি। 

মেঘেদের দিন pdf বইয়ের প্রথম অংশ:- 

নদীর দুই ধারে নলখাগড়ার ঝােপগুলাে দেড়-মানুষসমান উঁচু। তার ভেতর হাঁটুসমান জল। সেই জলের ভেতর ছপছপ শব্দ তুলে হাঁটছে বুড়ি। সে এবার এগারােয় পড়েছে। তার পরনে বুকের কাছে কুঁচি দেওয়া ফ্রক। নতুন এই ফ্রকখানা তার ভীষণ পছন্দের। কারণে-অকারণে নানান অজুহাতে এই ফ্রক পরে সে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। আজ অবশ্য বেরিয়েছে কাজে। 

আকাশজুড়ে ঘন কালাে মেঘ। থেকে থেকে বিদ্যুৎও চমকাচ্ছে। খানিক বাদেই বৃষ্টি নামবে। এর মধ্যে হাঁসের বাচ্চাগুলােকে পাওয়া যাচ্ছে না। এবার বর্ষাকালটা চলে এসেছে অনেক আগেভাগেই। জ্যৈষ্ঠ মাসেই একটানা বৃষ্টি।

সেই বৃষ্টিতে নতুন পানি উঠে এসেছে বাড়ির আশপাশে। দুদিন আগে ফোটা হাঁসের বাচ্চাগুলাে সেই পানিতে শােলার মতন ভেসে বেড়ায়। তাদের আটকে রাখা ভারি মুশকিল!

‘ও বুড়ি, এই জলার ভিতরে কী খোজস ?[  মেঘেদের দিন pdf  ]

বুড়ি চমকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। হারু ব্যাপারী ডিঙি নৌকার মাথায় বসে জংলা ঘাস কাটছে। তার হাতে চকচকে নতুন কচি। নৌকার মাঝখানে স্থূপ হয়ে আছে সবুজ ঘাস।

“হাঁসের ছাওগুলান খুঁজি কাকু।

‘এতদূর কি আইছে নি ছাও ?

বুড়ি মৃদু হাসে, “ওইগুলানরে বিশ্বাস নাই, যহন তহন যেদিক ইচ্ছা হারাই যায়।

হারু ব্যাপারীও হাসল। তারপর কাঁচি ধরা হাতের উল্টোপিঠে খোঁচাখোঁচা দাড়িগুলাে চুলকে নেওয়ার চেষ্টা করল। বুড়ি বলল, “হাঁসগুলান দেখছেন নি কাকু ?

হারু ব্যাপারী ঘাসের মুঠিটা নৌকার মাঝ বরাবর ছুড়ে দিতে দিতে বলল, ‘ওই দিকে মনে লয় কয়ডা হাঁস দেখলাম। সাথে কতগুলান ছাওও।

‘আমাগাে ছওগুলান দেখছেন ?

‘তােগাে গুলান আমি চিনমু ক্যামনে? আমি তাে আগে দেহি নাই!’ তাও তাে কথা! বুড়ি খানিক দুশ্চিন্তায়ই পড়ে গেল। আশপাশে কোথাও আর হাঁসের বাচ্চাগুলােকে দেখা যাচ্ছে না। সে কতির গলায় বলল, “কোনদিকে দেখছেন কাকু ?”

হারু ব্যাপারী হাত তুলে উত্তর দিকে খালের পাড়টা দেখাল। ওখানে জলের গভীরতা ও স্রোত বেশি। বুড়ি চাইলেও যেতে পারবে না। সে অসহায় চোখে সে দিকে তাকিয়ে রইল। হারু ব্যাপারী অবশ্য বলল, ‘তুই এক কাম কর, নাওয়ে উইঠ্যা আয়, আমি তােরে নিয়া যাইতেছি।’

বুড়ি নৌকায় উঠল। আর সেই মুহূর্তে ঝমঝম বৃষ্টি শুরু হলাে। গাছের ডাল কেটে বানানাে লম্বা ডাটের ছাতা আছে হারু ব্যাপারীর কাছে। সে সেই ছাতা মেলে তার নিচে বুড়িকে ডাকল। অতটুকু ছাতার নিচে দুজনকে ধরার কথা না। কিন্তু হারু ব্যাপারী দুহাতে বুড়িকে বুকের সঙ্গে চেপে ধরল। চারপাশে কেউ নেই, মাথাসমান উঁচু নলখাগড়ার বন। এর মধ্যে হারু ব্যাপারী তাকে অমন করে চেপে ধরছে কেন! বুড়ির আচমকা ভয় লাগতে শুরু করল।

হারু ব্যাপারীর একখানা হাত বুড়ির কুঁচি দেওয়া ফ্রকের বুকের কাছটায় ঢুকে যেতে চাইছে। বুড়ি প্রাণপণে চেষ্টা করছে তার হাতখানাকে আটকে রাখতে, কিন্তু পারছে না। মানুষটার গায়ে যেন ক্রমশই অসুরের শক্তি ভর করছে। বুড়ি অবাক চোখে লােকটার দিকে তাকাল, হারু কাকু রােজ বাবার সঙ্গে তাদের বাড়িতে আসে। 

রাতে উঠানে বসে মাঝরাত্তির অব্দি গল্প করে।

মাঝেমধ্যে বাজার থেকে তার জন্য লজেন্স-বিস্কুটও নিয়ে আসে। সেই হারু কাকুর হঠাৎ কী এমন হলাে! বুড়ির খুব ভয় করছে, খুব ভয়। সঙ্গে কান্নাও পাচ্ছে। কিন্তু এখানে সে কাদলে শুনবে কে ? মেঘেদের দিন pdf download   বুড়ির কান্না অবশ্য শুনল আকাশ। আচমকা বিকট শব্দে কাছেই কোথাও বজ্রপাত হলাে। সেই শব্দে হারু ব্যাপারী ভয় খেয়ে গেল। সে ঝট করে বুড়িকে ছেড়ে দিয়ে আকাশের দিকে তাকাল। তারপর বার-দুই এদিক-সেদিক তাকিয়ে বলল, “আসমানের অবস্থা ভালাে না, বুঝলি ? খােলা জায়গায় থাহন। ঠিক না। চল ওইদিকে যাই।”

বুড়ি আর হারু কাকুর সঙ্গে কোনাে দিকেই যাবে না। কিন্তু তার উপায় নেই। সে এক হাতে হারু কাকুর হাত খামচে ধরেছে। আরেক হাতে নৌকার পাটাতন। যেন এই নৌকার পাটাতন তাকে হারু কাকুর বজ্র আঁটুনি থেকে বাঁচাবে। কিন্তু হারু কাকু তাকে প্রায় বগলদাবা করে নৌকাটাকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে লাগল মূল খালের দিকে। খালের ওপাশটায় লােকালয় নেই।

সেখানে আরও ঘন ঝােপ। সেই ঝােপের ভেতর সে নৌকা নিয়ে যেতে চাইছে। বুড়ির এখন চোখ বেয়ে জল নামছে। যদিও বৃষ্টির কারণে তার চোখের জল দেখা যাচ্ছে না। সে আচমকা হারু কাকুর হাতে কামড় বসিয়ে দিল। হারু কাকু অবশ্য তাতে খুব-একটা বিচলিত হলাে না। সে ঝাড়া দিয়ে বুড়ির মুখ থেকে হাতখানা ছাড়িয়ে নিয়ে বুড়িকে নৌকার মাঝখানে ঘাসের ভেতর ছুড়ে ফেলে দিল। 

বুড়ি ঘাসের ভেতর চিৎ হয়ে পড়ে রইল। তার চোখের সামনে বিস্তৃত মেঘলা আকাশ। আকাশ বেয়ে তিরের ফলার মতাে বৃষ্টি নেমে আসছে। সেই বৃষ্টির ভেতর অন্ধকার আকাশের গায়ে হারু কাকুর শরীরটা কেমন বিদঘুটে দেখাচ্ছে।মেঘেদের দিন pdf download link!!  

হারু ব্যাপারী নৌকা নিয়ে উত্তর দিকের মূল খালের দিকে সরে যাচ্ছে। ঘন লম্বা ঘাসের কারণে নৌকা সহজে নড়ছে না। বুড়ির হঠাৎ মার কথা খুব মনে পড়তে লাগল। আজিকাল মা আর তাকে কোথাও একা একা যেতে দিতে চায় না। শাসন-বারণটাও আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। গায়ের ছেলেছােকরাদের সঙ্গে আর খেলতেও দিতে চায় না। হাঁটু-ঢাকা লম্বা জামা পরতে দেয়।

জামার সামনে বুকের কাছের জায়গাটা ঈষৎ স্ফীত হয়ে উঠছে বলে মা সেখানে জোর করে একটা গামছাও ঝুলিয়ে দেয়। সেই গামছা সামান্য সরে গেলেও ধমকে ওঠে। নতুন ফ্রকখানাতে বুকের কাছটাতে তাে কুঁচিই লাগিয়ে দিয়েছে মা।

এসব থেকেই বুড়িও যেন খানিকটা বড় হয়ে উঠেছে। সেও খুব বুঝতে পারে, আজকাল আশপাশের মানুষেরা তার দিকে কেমন করে যেন তাকায়! কিন্তু তাই বলে হারু কাকু ? বুড়ির এখনাে বিশ্বাস হতে চায় না। মা অবশ্য ঠারেটুরে তাকে নানা কিছু বুঝিয়েছে! কিন্তু তার বেশির ভাগই বুড়ির কাছে আজগুবি আর হাস্যকর কথাবার্তা মনে হয়েছে। মাকে মনে হয়েছে বােকার হদ্দ! কিন্তু আজ এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে, মায়ের চেয়ে বড় বুদ্ধিমতী আর কেউ নেই। এ জগতে মায়ের চেয়ে বেশি আর কেউই দেখতে পায় না, কেউ বুঝতে পারে না।

বুড়ি বিড়বিড় করে মাকে ডাকতে লাগল। তার ধারণা শেষ মুহূর্তে কোনাে-না-কোনাে উপায়ে মা তার কাছে পৌছে যাবে। তারপর তাকে এখান থেকে নিয়ে যাবে। বুড়ি তাই প্রাণপণে মাকে ডাকতে লাগল। ঘন লম্বা ঘাসের কারণে উল্টোদিকে নৌকা বেয়ে নেওয়া পরিশ্রমের কাজ। কিন্তু খালের কাছাকাছি চলে আসতেই তীব্র স্রোতে নৌকাখানা ভেসে যেতে লাগল।

পলকা নৌকাখানা সামলাতে হিমশিম খেয়ে গেল হারু ব্যাপারী। ঠিক সেই মুহূর্তে অদ্ভুত একটা দৃশ্য দেখল বুড়ি। তার ঠিক সামনেই কাছের বাঁক ঘুরে একটা বড় ছইঅলা নৌকা ঢুকল খালের এপাশে। সেই নৌকার মাথায় একজোড়া সােমত্ত বয়সের ছেলেমেয়ে দাড়িয়ে। তাদের দেখতে লাগছে সিনেমার নায়ক-নায়িকাদের মতাে। এই প্রবল বর্ষণেও তাদের মাথার ওপর কোনাে ছাতা নেই। 

তারা আনন্দে ঝলমল করতে করতে বৃষ্টিতে ভিজছে। মেয়েটার পরনে নীল রঙের শাড়ি, তার সেই শাড়ি শরীরের সঙ্গে লেপ্টে আছে, নৌকার মাঝি বারবার চোরা চোখে তাকে দেখছে। কিন্তু এই নিয়ে মেয়েটার কোনাে ভাবান্তর নেই। সে পরম আনন্দে বৃষ্টিতে ভিজছে, যেন এই জনমে এভাবে বৃষ্টিতে ভেজার সুযােগ আর সে কখনােই পাবে না।

বুড়ি আচমকা ঝটকা দিয়ে নৌকার ওপরে দাঁড়িয়ে গেল, তারপর হাত উঁচু করে ডাকল, “এই এইদিকে আহেন, এই দিকে। তুমুল বৃষ্টি আর মেঘের গর্জনে তার ডাক অবশ্য ওই নৌকা অব্দি পৌছাল।  তবে মুহূর্তে সতর্ক হয়ে গেল হারু ব্যাপারী। এই খালের ভেতর এই অসময়ে এভাবে কাউকে আশা করে নি সে! আচমকা পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে দেখে সতর্ক হয়ে গেল হারু। জোরালাে ধমক দিয়ে সে বুড়িকে বলল, “এই ছেমড়ি, বয়, বয় ওইহানে।

বুড়ি অবশ্য তার কথায় কান দিল না। সে আরও জোরে চিৎকার করতে লাগল। বুড়ির নড়াচড়ার তাল সামলাতে না পেরে ছােট ডিঙি নৌকাখানা এপাশ-ওপাশ কাঁপতে থাকল। হারু ব্যাপারী এবার খেকিয়ে উঠল, “নাও উল্টাই যাইবাে কিন্তু, এহনাে ভালােমতাে কইতাছি—বইয়া পড়।

বুড়ি আগের মতােই তার কথায় কান দিল না। উপায়ন্তর না দেখে হারু ব্যাপারী বসে থেকেই দুকদম সামনে এগিয়ে এল। তারপর বিদ্যুৎবেগে বাঁ হাতখানা বাড়িয়ে দিল বুড়িকে ধরবে বলে। কিন্তু তার আগেই হারু ব্যাপারীকে চমকে দিয়ে ঝপাৎ শব্দে খালের জলে ঝাপিয়ে পড়ল বুড়ি। তার এতক্ষণ শীত শীত লাগছিল, কিন্তু এখন খালের জলে পড়ার পর মনে হচ্ছে, এই জলটাকে কেউ যেন কুসুমগরম করে রেখেছে। আরামে বুড়ির চোখ বন্ধ হয়ে আসতে লাগল।

To be continued…….. পুরো বইটি পড়তে ডাউনলোড করুন। 

Megheder din/মেঘেদের দিন pdf বইটি ডাউনলোড করতে নিচের ডাউনলোড বাটন এ ক্লিক করুন।  

বিঃদ্রঃ এত সুন্দর Megheder din / মেঘেদের দিন pdf বইয়ের একটি বইয়ের হার্ড কফি কিনতে কিসের এতো সমস্যা?   

মেঘেদের দিন pdf বইটির  হার্ড কফি কিনুন :- 

rokomari.com 

aadi.com

Amazon.com

Boimela.in

Tags

ADR Dider

Best bangla pdf download, technologies tips,life style and bool, movie,smartphone reviews site.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Close

Ad blocker detected

Plz turn off your ad blocker to continue in this website...