bangla pdf books

দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব/dudh cha kheye toke guli kore debo bangla pdf download

বইঃ দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব/dudh cha kheye toke guli kore debo bangla pdf

dudh cha kheye toke guli kore debo bangla pdfলেখকঃ জাহিদ হোসেন
প্রকাশকঃ বাতিঘর প্রকাশনী
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
ঘরানাঃ থ্রিলার/ডার্ক কমেডি/স্যাটায়ার
প্রচ্ছদঃ ডিলান
পৃষ্ঠাঃ ২৫৬
bangla pdf সাইজ :-৯৯এম্বি।

dudh ca kheye toke guli kore debo bangla pdf book/পাঠক রিভিউ(১):-


dudh cha kheye toke guli kore debo/ দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব কাহিনি সংক্ষেপঃ সিরিয়াল কিলিং শুরু হয়েছে ঢাকায়। কেউ একজন রাতের আঁধারে গুলি করে মানুষ খুন করে লাশ ফেলে রেখে যাচ্ছে কোন না কোন চায়ের স্টলের সামনে। তারপর দেয়ালে লিখে যাচ্ছে – দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব/dudh cha kheye toke guli kore debo bangla pdf.


▪শুধু তাই না, ক্রাইম সিনে ফেলে যাচ্ছে আধখাওয়া চায়ের কাপ ও কিছু বিস্কিট। অদ্ভুত এই সিরিয়াল কিলিংয়ের ঘটনাগুলোর তদন্তের ভার এসে পড়লো সরকারী গোয়েন্দা রফিকুল ইসলামের কাঁধে। অত্যুৎসাহী মিডিয়া যাকে দুধ চা কিলার নামে ডাকে, তাকে খুঁজতে শুরু করলেন রফিকুল ইসলাম ও তার টিম।

▪ঢাকার মোহাম্মদপুরের চা দোকানী মান্নান মিয়ার চা খুব বিখ্যাত। ‘চালু দোকান’ বলতে যা বোঝায়, মান্নান মিয়ার চায়ের স্টল তাই।


▪সে যে শুধু চা-ই ভালো বানায় তা না, বরং অসাধারণ ভঙ্গিতে গল্পও বলে। মান্নান মিয়ার দোকানের কাস্টমাররা সবাই মুগ্ধ হয়ে শোনে তার গল্প।


▪মাঝে মাঝেই সে একটা গল্প বলে। এক সন্তের গল্প। এমন এক গল্প, যে গল্পের সাথে জড়িয়ে আছে অমরত্বের মতো বহুল আকাঙ্ক্ষিত বিষয়।

▪বিশ্বখ্যাত ‘দ্য ইকোনোমিস্ট’ পত্রিকায় ‘দ্য টি ইভ শ্যানং’ নামে একটা আর্টিকেল লিখে রীতিমতো হইচই ফেলে দিলেন দর্শনের প্রোফেসর ড. মেহবুব আরেফীন চৌধুরী।


▪একটা বিশেষ ধরণের চা পাতা নিয়ে লেখা সেই আর্টিকেলের বক্তব্য যদি সত্যি হয় তাহলে অমরত্ব ও অপার জ্ঞান সত্যিই লাভ করা সম্ভব।


▪ নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা হতে লাগলো ড. মেহবুব আরেফীন চৌধুরী ও তাঁর আর্টিকেলটা নিয়ে। এসব ডামাডোলের মাঝেই নৃশংসভাবে খুন হয়ে গেলেন এই মেধাবী মানুষটা। আর তাঁর এই খুনকে ঘিরেই পাকিয়ে উঠতে লাগলো ভয়াবহ অদ্ভুত এক ষড়যন্ত্র।

▪কোন এক অদ্ভুত কারণে আমেরিকা, চীন, রাশিয়া ও খোদ বাংলাদেশের সিক্রেট এজেন্সিগুলো ভয়াবহ রকম তৎপর হয়ে উঠেছে।


▪ সি.আই.এ., কে.জি.বি. ও বাংলাদেশের ‘ঘুঘু’-এর নানা আন্ডারগ্রাউন্ড কর্মকাণ্ড শুধু যে আন্ডারগ্রাউন্ডেই সীমাবদ্ধ রইলো তা কিন্তু না, বরং রক্তাক্ত পদক্ষেপে তা এগিয়ে চললো স্বাভাবিক জনজীবনের দিকে। একের পর এক লাশ পড়তে লাগলো৷
▪রহস্যময় একটা ‘প্যাকেজ’-এর খোঁজে মরিয়া হয়ে উঠলো এজেন্টরা।

▪ঢাকা ও চট্টগ্রামের বুকে একের পর এক ঘটনার ঘনঘটা দেখা গেলো। কাকতালীয় ভাবেই প্রত্যেকটা ঘটনার পেছনেই কোন না কোন ভাবে একটামাত্র শব্দ জড়িয়ে আছে। আর সেই শব্দটা হলো – ‘চা’!

dudh cha kheye toke guli kore debo/দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ ২০১৯-এর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে ‘দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব’ অন্যতম আলোচিত-সমালোচিত বই।


dudh cha kheye toke guli kore debo bangla pdf /দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব অদ্ভুত নামটার কারণেই বইটা প্রকাশের আগে থেকেই এতো গুঞ্জন। রাজীব দত্তের আঁকা গ্রাফিতি থেকে জাহিদ হোসেন তাঁর নতুন এই উপন্যাসের নামকরণ করেছেন।

dudh cha kheye toke guli kore debo bangla pdf বইটা পড়ার পর অনেকেই নিজেদের মিশ্র মতামত জানিয়েছেন। অবশেষে আমিও পড়তে পারলাম বইটা। এবার আমার মতামত জানানোর পালা।

dudh cha kheye toke guli kore debo/দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব বইটা তো অবশ্যই থ্রিলার, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।

কিন্তু অনেকটাই এক্সপেরিমেন্টাল একটা কাজ বলা যেতে পারে এটাকে।

সাইকো থ্রিলার ধর্মী একটা প্লটের সাথে জাহিদ হোসেন এখানে সমাবেশ ঘটিয়েছেন ডার্ক কমেডি, স্পাই থ্রিলার, মিথ, স্ল্যাশার ও স্যাটায়ারিক কিছু ব্যাপারের।

শুরু থেকেই একের পর এক চরিত্রের আগমন ও কর্মকাণ্ডে নিজেরও কিছুটা দিশেহারা লাগছিলো। বইটা পড়তে গিয়ে ধীরে ধীরে সেই বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে এসেছি।

একটা সময় খেয়াল করলাম, রীতিমতো ‘দুধ চা’-এর জগতে ঢুকে গেছি পুরোপুরি। জাহিদ হোসেনের এই উপন্যাসে পেয়েছি মাজেদা খালা ও গিল্টি মিয়ার মতো চরিত্রগুলোকেও। তবে এদেরকে পেয়েছি সম্পূর্ণ অন্য আঙ্গিকে, যা কখনো আশাও করিনি।

সেই সাথে বিখ্যাত অনেক লেখক, যেমন অ্যালিস্টার ম্যাকলিন, ম্যাথিউ রাইলি সহ অনেকের নামই তিনি তাঁর সৃষ্টি করা কয়েকটা চরিত্রের নাম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ব্যাপারটা পিকিউলিয়ার লেগেছে।

dudh cha kheye toke guli kore debo/দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব রীতিমতো বিশাল একটা প্লটের উপন্যাস। নানা ঘটনার ঘনঘটা ও অনেক প্লাস-মাইনাসের গাণিতিক হিসাবের পর জাহিদ হোসেন সুচারুভাবে কাহিনির শেষটা মিলাতে পেরেছেন। শেষের দিকের ট্যুইস্টটাও বেশ ভালো লেগেছে আমার কাছে।

ব্যক্তিগতভাবে dudh cha kheye toke guli kore debo/বইটা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। ডার্ক কমেডি ও ডার্ক হিউমারে পরিপূর্ণ ছিলো পুরো কাহিনিটাই।

দ্রুতগতির কাহিনি হওয়ায় পড়ে শেষ করেছিও বেশ দ্রুতই। ভবিষ্যতে এমন এক্সপেরিমেন্টাল কাজ আরো আশা করছি জাহিদ হোসেনের কাছ থেকে। পাঠকের সমালোচনাই হয়ে উঠুক তাঁর অনুপ্রেরণা ও শক্তি। শুভকামনা রইলো লেখকের জন্য।

ডিলান সাহেবের করা dudh cha kheye toke guli kore debo bangla pdf/ দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব এর প্রচ্ছদটা অসাধারণ লেগেছে। তবে বাঁধাইয়ের দিকে বাতিঘর প্রকাশনী কর্তৃপক্ষের একটু মনোযোগ দেয়া উচিৎ বলে মনে হয়েছে আমার।

▪জাহিদ হোসেনের অন্যান্য মৌলিক থ্রিলারের নাম নিচে দিয়ে দিলাম। সবগুলোই এসেছে বাতিঘর থেকে।

১। ঈশ্বরের মুখোশ (রিভেঞ্জ ট্রিলোজি # ১)

২। ফিনিক্স (রিভেঞ্জ ট্রিলোজি # ২)

৩। কাদ্যুসেয়াস

৪। এক জোড়া চোখ খোঁজে আরেক জোড়া চোখকে (লাভক্রফটিয়ান হরর থ্রিলার)

▪পাঠক রিভিউ(২):-

▪নাম: dudh cha kheye toke guli kore debo bangla pdf /দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দিবো⠀

▪লেখক: জাহিদ হোসেন⠀

▪জনরা: ডার্ক থ্রিলার⠀

▪রেটিং: ৩.৮⭐/৫⭐⠀

▪ সার-সংক্ষেপ: ⠀

▪চায়ের দোকানদার মান্নান মিয়া। অদ্ভুত একটা চরিত্র। সে বেশ ভালো চা বানায়, মন মেজাজ ভালো থাকলে কাস্টমারদের বিভিন্ন কিংবদন্তীর গল্প শোনায়।⠀

▪শ্যানং নামে এক সাধু বাস করতো প্রাচীনকালে। সব রোগের চিকিংসা করতে পারতেন একমাত্র মৃত্যু ছাড়া। সুদূর চীনদেশ থেকে বিস্ময়কর একটা জিনিস আবিষ্কার করে নিয়ে এসেছেন পন্ডিত মেহবুব আরেফিন চৌধুরী। যেটা পাল্টে দিতে পারে মানবজাতির ভবিষ্যৎ। কী সেই জিনিস? ⠀

▪এদিকে সিরিয়াল কিলিং শুরু হয়েছে ঢাকায়। কে যেন প্রতিনিয়ত রাতের আঁধারে গুলি করে মানুষ খুন করে লাশ ফেলে রেখে যাচ্ছে কোন না কোন চায়ের স্টলের সামনে। লাশের পাশে আধখাওয়া চায়ের কাপ ও বিস্কুট রেখে যাচ্ছে।

▪ সেই সাথে দেয়ালে এঁকে রাখছে একটা আজব গ্রাফিতি। গ্রাফিতিতে লেখা ‘দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব’। অদ্ভুত এই সিরিয়াল কিলিংয়ের ঘটনাগুলোর তদন্তের ভার এসে পড়লো সরকারী গোয়েন্দা রফিকুল ইসলামের কাঁধে।

▪অত্যুৎসাহী মিডিয়া যাকে দুধ চা কিলার নামে ডাকে, তাকে খুঁজতে শুরু করলেন রফিকুল ইসলাম ও তার টিম। শহরের মধ্যে কে করছে এ খুনগুলো? এই খুনগুলোর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে নাকি শুধুই খেয়ালের বশে খুনগুলো করা?⠀

▪কোন এক অদ্ভুত কারণে আমেরিকা, চীন, রাশিয়া ও খোদ বাংলাদেশের সিক্রেট এজেন্সিগুলো ভয়াবহ রকম তৎপর হয়ে উঠেছে। কিন্তু কেন?⠀

▪ পাঠ-প্রতিক্রিয়া: ⠀

▪গতবছর বেশ কয়েক জায়গায় এই বইয়ের নেগেটিভ রিভিউ পড়ে বইটা পড়ার ইচ্ছে হয়েছিল। তাছাড়া নামটাও বেশ অদ্ভুত। কিন্তু লেখক খুব সম্ভবত এক্সপেরিমেন্টাল কিছু করতে যেয়ে একদম তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন।

▪উপন্যাসের প্লট ইন্টারেস্টিং, সেই সাথে সিরিয়াল কিলিং, স্যাটায়ারিক কাজ আর ডার্ক কমেডির দুর্দান্ত সমন্বয় ঘটেছে এখানে। তাছাড়া উনি উপন্যাসে বেশ কিছু বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের নাম চরিত্রের নাম হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

▪বইয়ের চরিত্র সংখ্যা এত বেশি যে মাঝ দিয়ে খেই হারিয়ে ফেলছিলাম। শেষের টুইস্টটা বেশ ভালো, তবে একটু তাড়াহুড়ো করে গল্পের ইতি টানা হয়েছে।

▪ এ বইয়ে প্রচুর গালাগালি আছে। যারা থ্রিলারের পাশাপাশি ডার্ক ধরনের কমেডি পেতে চান, তারা বইটা পড়তে পারেন।

পাঠক রিভিউ(৩):-

দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব

জাহিদ হোসেন

বাতিঘর প্রকাশনী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৬

প্রকাশকাল: ২০১৯

কাহিনি সংক্ষেপ:

▪মন মেজাজ ভালো থাকলে মোড়ের চা-দোকানি মান্নান মিয়া গল্প জুড়ে দেয়। গল্পটা এই মান্নান মিয়ার কাছ থেকেই শোনা।

▪ অনেক অনেক দিন আগের কথা, দুর্গম অরণ্যে এক দয়ালু সন্ত বাস করতেন। উনি ছিলেন এক ধন্বন্তরি চিকিৎসক। যে কোন রোগ সারাতে পারতেন। অসুস্থ কেউ উনার কাছে এসে খালি হাতে ফিরে যেত না। কিন্তু একটা জিনিস উনি সারাতে পারতেন না, সেটা হলো মৃত্যু। মানুষের মরণশীলতা তাকে পীড়িত করতো, ব্যথিত করতো।

▪ জানতেন, মৃত্যুর কাছে সবাই অসহায়। এক দিন গহীন জঙ্গলে এক রহস্যময় গাছ খুঁজে পান তিনি। সন্তের মতে, গাছটা সহস্রাব্দ-প্রাচীন। মানবজাতির অভ্যুদয়ের আগে থেকেই আছে। কিন্তু কী সেই রহস্যময় গাছের মাহাত্ম্য? ঢাকা শহর জুড়ে কে জানি মানুষ খুন করে দেয়ালে গ্র্যাফিত্তি এঁকে যাচ্ছে – দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব। পত্রপত্রিকা উদ্ভট এক লেবেল সেঁটে দেয় খুনির – ‘দুধ চা কিলার’।

▪ পুলিশের সিনিয়র গোয়েন্দা রফিকুল ইসলামের কাছে খুনগুলো এক বিরাট রহস্য। কে এই খুনি? কী চায় ও? এই দুর্বোধ্য গ্র্যাফিত্তির মানেই বা কী? বিদগ্ধ পন্ডিত ড. মেহবুব আরেফীন চৌধুরী হইচই ফেলে দেন দ্য ইকোনমিস্ট-এ চা বিষয়ক একটা আর্টিকেল লিখে – দ্য টি অব শ্যানং। সবার ধারণা ডক্টরের কাছে এক বিশাল রহস্যের চাবি আছে। চাবি নাও, খুলে যাবে অফুরন্ত সম্পদের ভান্ডার! পাঠক, চাবিটা আপনার হাতেই তুলে দিলাম। আহবান জানাচ্ছি জাহিদ হোসেনের উন্মাদ দুনিয়ায়। হারিয়ে যান এর অন্ধকার গলি-ঘুপচিতে।

▪প্রতিক্রিয়া:


▪২০১৯ বইমেলার বহুল আলোচিত একটি বই। ব্যক্তিগতভাবে জাহিদ হোসেনের লেখার বড় ভক্ত আমি। তার লেখায় একটা উন্মাদীয় ব্যাপার লক্ষ করা যায়। যে জিনিসটা আকর্ষণ করে আমাকে। যে লেখকদের লেখা পড়লে আমার সবসময়ই মনে হয় যে, যদি তার মতো লিখতে পারতাম, তার মধ্যে জাহিদ হোসেন খুব এগিয়ে থাকবেন।

▪এখন কথা হচ্ছে, দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব বইটাকে কি সে কাতারে ফেলা যাবে? সে ব্যাপারটাই বোঝার চেষ্টা করবো এই রিভিউয়ে।

▪বইটি নিয়ে লিখবার প্রধান কারণ হচ্ছে এর রাশি রাশি নেগেটিভ রিভিউ। এবং দুঃখের ব্যাপার সে রিভিউগুলোর একটাতেও আমি প্রকৃতপক্ষে বইয়ের নেগেটিভ কোনো ব্যাপারকে তুলে আনতে দেখিনি। বেশিরভাগের সমস্যা ছিলো নামকরণে। কিন্তু বইটি পড়বার পর সম্ভবত যে কেউ স্বীকার করতে বাধ্য হবেন যে বইয়ের নামকরণ পুরোপুরি স্বার্থক।

▪ বইটিতে এর একটি চরিত্র জেকে, তার একটা চিত্রকর্মের নামকরণ নিয়ে কিছু ফিলসফি দেখায়। তার মূলভাব হলো অনেকটা এমন যে পৃথিবীটাই যেখানে অর্থহীন সেখানে নামের যে গূঢ় অর্থ থাকতে হবে ব্যাপারটা এমন না। কিন্তু দুধ চায়ের ক্ষেত্রে নামকরণ যথেষ্ট যৌক্তিক।

বইটা যে পুরোপুরি উন্মাদ একটা টোনে লেখা, তা-ও নাম দেখেই আন্দাজ করা যাচ্ছে। আর যে গ্রাফিতি নিয়ে কাহিনি। তা-ও বাস্তবে রয়েছে। তাই এই নামকরণ নিয়ে সমালোচনা পুরো অর্থহীন বলেই মনে হয়েছে আমার।

▪দ্বিতীয় ব্যাপারটা হচ্ছে ব্ল্যাক কমেডি। অনেকেই এই বইকে ব্ল্যাক কমেডি বলে খুব সুনাম করেছেন। অনেকে একই কারণে করেছেন দুর্নাম। আমি এসব কিছুই করবো না। শুধু বুঝবার চেষ্টা করবো যে এটি কি ব্ল্যাক কমেডি জনরায় পড়েছে কি না। এবং পড়লেও তা সফল হয়েছে?

▪ব্ল্যাক কমেডি বলতে বোঝায় শিল্পের এমন একটা ধারা যেখানে কোনো ট্যাবু, নৃশংসতা, যৌনতা, দুর্নীতি, অসাম্যতা ইত্যাদিকে হাস্যরসাত্মক একটা টোনে দেখানো হয়। সাথে থাকে গুরুগম্ভীর স্ট্রং একটা পয়েন্ট, যা লেখক খুব হালকাভাবে মজা করে অডিয়েন্সের জন্য তুলে ধরেন।

▪ আমি অবশ্য ব্ল্যাক কমেডিকে খুব সহজভাবে সংজ্ঞায়িত করি। বাংলায় এর জন্য খুব সুন্দর একটি শব্দগুচ্ছ রয়েছে। ‘ভাগ্যের নির্মম পরিহাস’। যদিও এই শব্দগুচ্ছ পুরো ধারণাটা দেয় না। কিন্তু বেসিক ধারণাটা সম্ভবত দিয়ে দেয়।

▪ দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব বইটাতে জায়গায় জায়গায় ডার্ক কমেডির ব্যবহার রয়েছে।

এবং বই শেষ করার পর তার তীব্রতা আরেকবার পাঠকের চোখে ধরা পড়তে বাধ্য। পুরো কাহিনিটাই যে একটা নির্মম পরিহাস তা বোধহয় যারা বইটি পড়েছেন তারা ধরতে পারবেন।

▪মানুষ মৃত্যুকে ভয় পায়। অমর হবার তীব্র বাসনা সম্ভবত সবার মধ্যেই থাকে। নিজের কথা বলি। অস্বীকার করবো না, যখন লিখতে শিখেছি তখন থেকেই মনে হতো যে এমন কিছু করে যেতে হবে যা আমাকে অমর করে দেবে। সম্ভবত সব লেখকেরই এই ধরণের সুপ্ত একটা ইচ্ছা থাকে।

▪ একটা লক্ষ থাকে। কিন্তু যতই দিন যেতে লাগলো, যতই বাস্তবতা চোখে প্রকট হতে শুরু করলো, ততই মনে হতে লাগলো যে এটি এক আকাশকুসুম কল্পনা। সুস্থ মস্তিষ্কের একজন লেখকের এসব ভাবার মতো বিলাসিতা সম্ভব নয়। একজন লেখগক নয় শুধু, যেকোনো মাধ্যমের শিল্পীর ক্ষেত্রেও সম্ভবত এই অমর হবার বাসনা চিরন্তন।

▪সাধারণ মানুষদের দৈহিকভাবে অমর হবার আশার কথা তো বলা বাহুল্যই বটে। এই বইয়ের স্ট্রং পয়েন্টটা সম্ভবত এখানেই। টি অব শ্যানং আর ট্রি অব নলেজের মধ্যে এক পারস্পরিক দ্বন্দ্ব। সবাই যখন ট্রি অব শ্যানং-এর পেছনে ছোটাছুটিতে ব্যস্ত, তখন লেখক সুচতুরতায় আমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন যে একজন শৈল্পিক সত্তাই শুধুমাত্র অমর হতে পারে।

▪ আর সে শিল্প হচ্ছে জ্ঞান। এই পয়েন্টটা ধরে ফেলবার পর একটা আলস্য চলে আসে। মনে হয়, সত্যিই তো। এত হানাহানিতে লাভ কী! অমর হবার জন্য তো জ্ঞানের বিকল্প কিছু নেই। আর এই ব্যাপারটাকেই পুরো বইতে তীব্র এক পরিহাসের স্বরূপে শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ব্ল্যাক কমেডিতে দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব বইটি স্বার্থক।

▪জর্জ অরওয়েল, ফ্রানৎজ কাফকা, জোনাথন সুইফট থেকে জেকে রোওলিং, নীল গেইম্যান, টেরি প্র্যাচেটসহ অনেক লেখক কাজ করেছেন ব্ল্যাক কমেডি নিয়ে। তবে আমরা সম্ভবত মুভি দিয়ে এই জনরাকে বেশি চিনবো।

কোয়েন্টিন টারান্টিনোর পাগলাটে রূপায়নের সাথে সম্ভবত এই বইকে বেশি তুলনা করা চলে। টারান্টিনো, কুব্রিক, স্করসেসে, কোয়েন ব্রাদারস কিংবা হালের প্যারাসাইট বা টাইকা ওয়াইটিটির মুভিটা- এগুলো সব ডার্ক কমেডি।

▪আর আমরা সব খুব উপভোগও করে থাকি। সেখানে এই বইটা নিয়ে সমস্যা হবার কারণ তাই আমি বুঝে উঠতে পারি না। কোন এক রিভিউতে যেন এই বইকে ডেডপুল বা আম্ব্রেলা অ্যাকাডেমির সাথে তুলনা করতে দেখেছিলাম। হাস্যকর।

▪এরপর দৃষ্টি দেয়া যাক চরিত্রের ওপর। এই ব্যাপারে খুব তীব্র অভিযোগ যে চরিত্রের সংখ্যা এত বেশি যে খেই হারিয়ে ফেলতে হয়। এই ব্যাপারে কী বলবো আমি ঠিক জানি না। হয়তো আমার সৌভাগ্য যে আমি ইতোমধ্যেই জাহিদ হোসেনের সব বই পড়ে ফেলেছি (এক জোড়া চোখ বাদে)। এজন্য আমি তার লেখার ধরণ সম্পর্কেও অবগত।

▪ আর প্রতিটি বইতেই তিনি প্রচুর চরিত্রের অবতারণা ঘটান তা-ও বলা বাহুল্য। তবে সব চরিত্রেরই একটা পরিণতি থাকে। না, আমার খেই হারিয়ে ফেলতে হয়নি। কোনো চরিত্র বুঝতেও কষ্ট হয়নি। মোটামুটি তিনিটা টিমে ভাগ করে নিলেই ব্যাপারটা আর ঝামেলার থাকে না। কেজিবির এজেন্ট, সিআইএর এজেন্ট এবং মুন ফার্মাসিউটিক্যাল টিম বা ঘুঘু বাহিনি।

▪আর বাকি চরিত্র তো খুব বেশি নয়। প্যাঁচ লাগাটাই বরং অস্বাভাবিক। কিংবা কে জানে, জাহিদ হোসেনের বাকি সব বই পড়ে ফেলার কারণে হয়তো আমি অভ্যস্ত ব্যাপারটায়। তবে আমার ধারণা কিছু সাহিত্যিকের কল্যাণে আমরা সম্ভবত নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে বই পড়তে চাই। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে মুভি দেখা যেতে পারে কিন্তু বই পড়তে গেলে মাথাটা খাটানো চাই।

এই দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব

বইতে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট অংশ খুবই কম। এটা একটা নেগেটিভ সাইড হতে পারে। কিন্তু আবার এ-ও ভাবতে হয় তাতে বইটা অতিরিক্ত ঝুলে যেতো কি না।

দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব বইয়ের আর যে ব্যাপারগুলো ভালো লেগেছে- এই বই প্রচণ্ডরকম আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা। প্রতিটি উপমায় শহুরে ইলিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এই জিনিসটা সবসময়ই আমাকে চমৎকৃত করে। একদম খুব র ভাষায় লেখা।

▪ভালগার ইলিমেন্টে কোনো কাটছাঁট নেই। এগুলো বইটাকে ভারীই করেছে বরং। যে বইয়ের জন্য যে টোন পারফেক্ট আরকি। ভায়োলেন্স এবং অ্যাকশনগুলো যথেষ্ট বিনোদনমূলক ছিলো। বিনোদন বলছি কারণ খুব হালকা একটা টোন দেখা গেছে এক্ষেত্রে।

▪ যেন রসিয়ে রসিয়ে গল্পের পাত্রপাত্রীদের বোকামি বর্ণনা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রচুর ট্রিবিউট দেয়া হয়েছে বইটাতে। এবং সেগুলোও যথেষ্ট হিউমারাস উপায়ে। যদিও সবগুলো ট্রিবিউট আমি নিজেও ধরতে পারিনি।

দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করর দেব গল্পের একটাই নেগেটিভ দিক আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বইয়ে প্রচুর বিদেশী এজেন্ট দেখানো হয়েছে। তারা ঢাকার রাস্তায় আহত হচ্ছে, মারা যাচ্ছে। হয়তো এজেন্সি এদের মৃত্যু লুকাবার চেষ্টা করে যাবে বা তোলপাড় করবে না।

▪ কিন্তু দেশের কি কোনো ইন্টেলিজেন্স সংস্থা নেই? বা কেউ কি সার্ভেইলেন্স করছে না? ঘটনাগুলো যেভাবে ঘটেছে তাতে শুধু পুলিশ, ডিবির ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে প্রশাসনের খালাস হয়ে যাবার কথা না। ব্যাপারগুলো

▪অবশ্যই দেশী ইন্টেলিজেন্সের দৃষ্টি আকর্ষণ করবার কথা। তাদের কোনো উপস্থিতি ছিলো না। এই ব্যাপারটা খুব খটমটে লেগেছে।

দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব /dudh cha kheye toke guli kore debo bangla pdf বইতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিতিটার কথা বলা হয়েছে। বলা হয়ে কলা ভবনের পাশে ভাসমান চায়ের দোকানের পাশে আঁকা সেই গ্রাফিতি। আমি একটু অস্বস্তিবধ করেছি এ জায়গায়। গ্রাফিতিটা যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ তাই এখানে সুন্দর একটা ভিজুয়ালাইজেশন চাইছিলাম। মানে বলতে চাচ্ছি যে বলা উচিত ছিলো কলার ঝুপড়ির অমুক পাশে গ্রাফিতিটার অবস্থান।

▪ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চা-সিগারেট বা হালকা নাস্তা এবং ক্ষেত্রবিশেষে দুপুরের খাবার পাওয়ার সাথে সাথে আড্ডা দেয়ার স্থানগুলোকে ঝুপড়ি বলেই অভিহিত করা হয়। কলার ঝুপড়ি, সমাজবিজ্ঞান ঝুপড়ি, লেডিস ঝুপড়ি ইত্যাদি।

আমার কাছে মনে হয়েছে সে বর্ণনাটুকু যেন তার সতেজতা হারিয়েছে যথার্থ তথ্য সংগ্রহের অভাবে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের অনুভূতি সহজেই দিয়ে দেয়া যেত স্রে একটা শব্দ ব্যবহার করেই। নিতান্তই ব্যক্তিগত অভিমত।

▪আর একটা ব্যাপার নিয়ে আমি দ্বিধান্বিত। নিশ্চিত না যে আমি বুঝতে পারিনি নাকি ভিন্ন কিছু। গিলটি মিয়া কি ডাবল এজেন্ট গোছের কিছু ছিলো? সে কি মান্নান মিয়া আর ডক্টর আরেফিন, দুজনের সাথেই কাজ করেছে?

▪ দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব /dudh cha kheye toke guli kore debo bangla pdf বইটাতে বানান ভুলের ক্ষেত্রে সব জায়গায় কী এর ব্যবহারে বারবার দ্বিধান্বিত হয়ে যাচ্ছিলাম। মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটছিলো বারবার।

▪ দুধ চা খেয়ে গুলি করে দেব জাহিদ হোসেনের সেরা কাজ না। কিন্তু সবচেয়ে বাজে কাজও না। একটি চিরায়ত জাহিদ হোসেনিয় পাগলাটে গল্প বললেই একে নিখুঁতভাবে বোঝানো যায়। এর সৌন্দর্য সবাই উপলব্ধি করতে পারবে কি না জানি না। চিরায়ত সাহিত্যপ্রেমীরা সম্ভবত পারবেন না, সেটা অবশ্য আমার ঠিক করে দেয়ার অধিকার নেই।

▪কিন্তু দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব বইটি যে পরিমাণ হেইট কমেন্ট পেয়েছে, তা মোটেই ডিজার্ভ করে না। আমি হাজারটা বইয়ের উদাহরণ দিতে পারবো যেসব বই খুব বিখ্যাত কিন্তু এই বইয়ের চাইতে অনেকগুণ বাজে। আমি ইদানীং প্রায়ই বলি যে কুব্রিক যখন আইজ ওয়াইড শাট মুভিতে তার গল্প বলে তখন আমরা খুব বাহ্বা দিয়ে উঠি। প্রশংসা না করলে যেন জাত থাকে না।

▪কিন্তু আমাদের তানজীম রহমান যখন অবয়ব লিখেন তখন আমরা নাক সিটকে বলি, এন্ডিং ভালো লাগে নাই, ফালতু বই। না, কুব্রিকে আমার সমস্যা নেই। কিন্তু যোগ্য প্রশংসা সবার জন্যেই সমান হওয়া উচিত।

▪আর বড় করছি না প্রতিক্রিয়া। সংক্ষেপে বললে দুধ চা নিয়ে এ-ই আমার উপলব্ধি। সুখপাঠ্য একটি বই হচ্ছে দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব। এবং দেশে এ ধরণের লেখা নিয়ে ইতোমধ্যে আর কেউ এক্সপেরিমেন্টের সাহস করেছে কি না জানি না।

▪ লেখক জাহিদ হোসেনের জন্য এটি খুবই বোল্ড একটি মুভ। আর সেজন্য লেখকের প্রতি মুগ্ধতাও আরো বেড়ে গেছে। আশা করি তিনি আমাদের আজীবন ভিন্নধর্মী পাগলাটে সব গল্প উপহার দিয়ে চলবেন।

dudh cha kheye toke guli kore debo/দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব bangla pdf বইটা ডাউনলোড করতে নিচের ডাউনলোড বাটন এ ক্লিক করুন।

Size:- 99Mb.

dudh cha kheye toke guli kore debo/দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব Bangla pdf বইটির হার্ড কফি কিনুন :-

Rokomari.com
boibazar.com
batigharprokashoni.com
aadi.com.bd
ittadishop.com

Tags

ADR Dider

Best bangla pdf download, technologies tips,life style and bool, movie,smartphone reviews site.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Close

Ad blocker detected

Plz turn off your ad blocker to continue in this website...