bangla pdf booksZafar iqbal book

গ্রামের নাম কাকনডুবি pdf download by Zafar iqbal

নাম:- গ্রামের নাম কাকনডুবি pdf download 

গ্রামের নাম কাকনডুবি pdf download লেখক:- মুহাম্মদ জাফর ইকবাল। 

পৃষ্টা:- ২৫৬। 

সাইজ:-  ১০এম্বি। 

গ্রামের নাম কাকনডুবি pdf download বইয়ের প্রথম কিছু অংশ :- 

স্কুল ছুটির পর আমি আর মামুন কালী গাংয়ের পাশ দিয়ে হেঁটে হেঁটে বাড়ি যাচ্ছিলাম। বটগাছের কাছে এসে সড়কটা যেখানে পুব দিকে মােড় নিয়েছে, ঠিক সেখানে বলাই কাকুর চায়ের স্টল। বলাই কাকু মনে হয় সারা পৃথিবীর মাঝে সবচেয়ে ভালাে চা বানায়। 

তার একটা দোমড়ানােমােচড়ানাে কেতলি আছে, সেখানে পানি গরম করলেই চায়ের লিকার বের হয়, সেটা গ্লাসে ঢেলে তার মাঝে যখন ঘন দুধ আর চিনি দিয়ে বলাই কাকু আচ্ছা মতন খুঁটে দেয়, তখন তার যা একটা স্বাদ হয়, সেটা বলার মতাে না। গ্রামের নাম কাকনডুবি pdf download link! 

চা খাওয়ার জন্য নগদ পয়সা আমাদের কারােরই থাকে না- কিন্তু যদি চায়ের স্টলে খরিদ্দার না থাকে তাহলে বলাই কাকু আমাদের ছােট ছােট গ্লাসে হাফ কাপ ফ্রি চা বানিয়ে দেয়। আমাদের জন্য দুধ-চিনি বেশি করে দেয়। তাই বাড়ি যাবার সময় আমরা প্রত্যেক দিনই বলাই কাকুর চায়ের স্টলে একটু উঁকি দিয়ে যাই।

আজকে উঁকি দেওয়ার আগেই শুনলাম ভেতরে কোনাে একজন উঁচু গলায় কথা বলছে। গলার স্বরটা অপরিচিত, তাই স্টলের ভেতর মাথা ঢুকিয়ে মানুষটার দিকে তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম। শার্ট-প্যান্ট, চোখে চশমা, হাতে সিগারেট কমবয়সী একজন মানুষ হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছে, কী বলছে আমরা ভালাে করে শুনতে পাচ্ছিলাম না। 

তার পরেও বুঝে গেলাম নিশ্চয়ই রাজনীতি নিয়ে কথা বলছে। ইলেকশনের পর থেকে সবাই সব সময় আজকাল রাজনীতি নিয়ে কথা বলে। চশমা চোখের কমবয়সী মানুষটার সামনে আমাদের গ্রামের দুইজন মুরব্বি বসে আছে। 

তারা সব কথা বুঝে ফেলছে, সেই রকম ভান করে মাথা নাড়ছে, কিন্তু তাদের মুখ দেখেই বুঝে গেলাম তারা আসলে কিছুই বুঝতে পারছে। হালচাষ, গরু-ছাগল ছাড়া তারা কিছুই বােঝে না।

মামুনের বুদ্ধি অনেক চশমা চোখের কমবয়সী মানুষটাকেও আমরা চিনতে পারলাম না। আমাদের গ্রামের নাম কাকনডুবি pdf download কাঁকনডুবি গ্রামের মানুষ না- কাঁকনডুবি/গ্রামের নাম কাকনডুবি pdf download  গ্রামের সবাইকে আমরা চিনি। শুধু মানুষ না এই গ্রামের সব গরু-ছাগলকেও আমরা চিনি। এই মানুষটা অন্য জায়গা থেকে এসেছে, দেখে মনে হয় শহর থেকে এসেছে।

শহরের মানুষদের দেখলেই চেনা যায়, তারা অন্য রকম করে চুল কাটে। তা ছাড়া গ্রামের মানুষদের চোখে কখনাে চশমা থাকে না। ▪আমি মামুনকে গলা নামিয়ে জিজ্ঞেস করলাম “মানুষটা কে?” আমি যেহেতু চিনি না তাই মামুনেরও চেনার কথা না, কিন্তু মামুন।

আমার থেকে অনেক বেশি খবর রাখে। মানুষটাকে না চিনলেও কোথা থেকে এসেছে, কেন এসেছে সেটা জানতেও পারে। কিন্তু সেও চিনল , মাথা নেড়ে বলল, “চিনি না। আগে দেখি নাই।” “কোনাে বাড়িতে আসছে মনে হয়?”

“মনে হয় কোনাে বাড়িতে আসে নাই।”

“তাহলে?”

মামুন দাঁত বের করে হাসল, বলল, হয় বিয়া করতে আসছে।

গ্রামের নাম কাকনডুবি pdf download /কাঁকনডুবির জামাই।” “জামাই?”

সব বিষয় সে খুব ভালাে অনুমান। “কাকে বিয়ে করবে?”

মামুন মুখ টিপে হাসল, বলল, “মনে হয় লতিফা বুবুকে।” লতিফা বুবু ছিল আমাদের লিডার, যখন ছােট ছিলাম তখন আমরা সবাই লতিফা বুবুর পেছনে পেছনে ঘুরে বেড়াতাম। লতিফা বুবু লেখাপড়াতেও খুব ভালাে ছিল, আমাদের থেকে দুই ক্লাস উপরে পড়ত কিন্তু যখন একটু বড় হয়ে গেল তখন তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল।গ্রামের নাম কাকনডুবি pdf download link! 

গ্রামের মেয়েরা যখন ছােট থাকে তখন স্কুলে যায়, যখন একটু বড় হয় তখন তাদের লেখাপড়া বন্ধ করে তাদের বিয়ে দিয়ে দেয়। লতিফা বুবুর বিয়ের কথা হচ্ছে, মামুন মনে হয় ঠিকই বলেছে। এই চশমা পরা মানুষটা মনে হয় লতিফা বুবুকেই বিয়ের জন্য এসেছে।

লতিফা বুবু যখন ছােট ছিল, আমাদের নিয়ে জঙ্গলে-মাঠে ঘুরে বেড়াত তখনই তার চেহারা খুব ভালাে ছিল, এখন চেহারা আরাে ভালাে হয়েছে। বাড়ি থেকে বের হয় না তাই বেশি দেখা হয় না কিন্তু যখন দেখা হয় তখন তাকে চিনতেই পারি না। শাড়ি পরলেই মেয়েরা অন্য রকম হয়ে যায়।গ্রামের নাম কাকনডুবি pdf download link!!  ।

চিৎকার করতে শুরু করলো ২ জনে  কেউ নাই।।

বলাই কাকুর চায়ের স্টল থেকে বের হয়ে আমরা আবার সড়ক ধরে হেঁটে হেঁটে আমাদের গ্রামের ভেতর ঢুকে গেলাম। সড়কটা গ্রামের ঠিক মাঝখান দিয়ে গিয়েছে, দুই পাশে ছােট ছােট বাড়ি, বাড়ির সামনে গাছপালা, বড় বড় বাঁশঝাড়। বাড়ির বাইরে গরু বেঁধে রেখেছে, গরুগুলাে খুবই শান্ত ভঙ্গিতে খড় চিবিয়ে যাচ্ছে।

তাদের মুখে কেমন যেন শান্তি শান্তি ভাব, মাঝে মাঝেই আমার মনে হয় মানুষের থেকে বুঝি এই গরুদের মনেই শান্তি বেশি! অনেক মানুষ আছে তাদের মানুষ না হয়ে গরু হয়ে জন্ম হলেই মনে হয় ভালাে ছিল।

সড়কের নরম ধুলায় পা ডুবিয়ে হাঁটতে কী মজাই না লাগে। জুতাে জিনিসটা আবিষ্কার হয়েছে কেন, কে জানে? জুতাে পরে এই নরম ধুলার মাঝে হাঁটার মধ্যে কি কোনাে মজা আছে? তারপর যখন বৃষ্টির সময় আসবে তখন এই সড়কে যে কাদা হবে সেই কাদার মাঝে কার বাবার সাধ্যি আছে জুতাে পরে হাঁটবে? মনে হয় সেই জন্যই কাঁকনডুবি গ্রামে জুতাে-স্যান্ডেল পরে সে রকম মানুষ বলতে।

আমি আর মামুন গল্প করতে পথটা ধীরে-সুস্থে একা একা হেঁটে আমি আমার বাড়িতে মাত্র পা দিয়েছি, তখনই নানি মনে হয় সারা কাঁকনডুবিতে নানির আমাকে দেখেই নানি চিল্কার করে হাত-পা নেড়ে বলতে শুরু করল, “এই যে! এই যে লাট সাহেবের বাচ্চা এখন বাড়ি এসেছেন।

কখন স্কুল ছুটি হয়েছে আর লাট সাহেবের বাচ্চার এখন সময় হলাে বাড়িতে আসার!”

কথাটা সত্যি। স্কুল ছুটির পর কোনাে দিনই আমি সাথে সাথে বাড়ি আসি না। এসে কী হবে? একটু ঘুরেফিরে বাড়ি আসি। আজকে অবশ্যি সে রকম দেরি হয়নি কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না। গ্রামের নাম কাকনডুবি pdf download link!! 

নানি ধরে নিল দেরি হয়েছে আর হাত-পা নেড়ে বলতে থাকল, “যদি পেটে কিছু দিতে হইত তাহলে লাট সাহেবের বাচ্চা মনে হয় বাড়িতেই আসত না। বান্দরের মতাে গাছের ডালে ডালে ঘুরে বেড়াইত।” নানিকে খেপানাের জন্য বললাম, “বান্দরই ভালাে। বান্দরদের স্কুল নাই, লেখাপড়া নাই।”

খাওয়ার জন্য কেন হাত,

নানি ধমক দিয়ে বলল, “চুপ কর বান্দর।”

আমি হি হি করে হেসে বললাম, “আমি যদি বান্দর হই তাহলে তুমি হলে বান্দরের নানি বান্দরানী।”

নানি তখন রেগেমেগে আমাকে ধরার চেষ্টা করল, পারল না। আমি নিজে থেকে ধরা না দিলে নানি কি কোনাে দিন আমাকে ধরতে পারবে?

মাঝে মাঝে আমি ইচ্ছা করে ধরা দিই, নানি তখন আমার কান মলে দেয়, চুল ধরে টান দেয়- ভান করে খুব রেগেমেগে আমাকে শাস্তি দিচ্ছে, আসলে ওসব কিছু না। আসলে আমাকে একটু আদর করে দেয়।

মাঝে মাঝে গভীর রাতে আমার ঘুম ভেঙে যায়, আধাে আধাে ঘুমের মাঝে আমি দেখি নানি আমার পাশে বসে আমার মাথায়, চোখে-মুখে। হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বিড়বিড় করে কিছু বলছে। নানি ছাড়া আমার আর কেউ নাই, নানি আমাকে দেখেশুনে না রাখলে আমি কোথায় যে ভেসে যেতাম।

মাঝে মাঝে আমার মনে হয় আমি না থাকলে নানিও নিশ্চয়ই এত দিনে মরেটরে যেত। নানি একেবারে হাল ছেড়ে করে মাথা নাড়ল, তারপর বলল, “যা হাত-মুখ ধুয়ে একটু হয়ে খেতে আয়।”

ধুয়ে মানুষ হতে হবে, সেটা নিয়ে আমি আর নানির সাথে তর্ক করলাম না, কলসি থেকে টিনের মগে একটু পানি ঢেলে বারান্দায় দাঁড়িয়ে হাত-মুখ ধােয়ার একটু ভান করলাম। নানি একটা সিঁড়ি দিল বসার জন্য তারপর থালায় ভাত বেড়ে দিল আমি যখন খেতে বসি নানি তখন পাশে বসে থাকে। 

তার নকশি করা পিতলের পানের বাটা থেকে পান বের করে, কুচি কুচি করে সুপারি কাটে, তারপর পানে চুন-সুপারি দেয়, জর্দা দেয় তারপর পানটা মুখে পুরে খুবই তৃপ্তি করে চিবুতে থাকে। তখন নানিকে দেখে মনে হয় তার থেকে সুখী মানুষ বুঝি পৃথিবীতে আর একজনও নাই।গ্রামের নাম কাকনডুবি pdf download link! 

নানির কথায়বার্তায় অবশ্যি সুখের কোনাে নমুনা থাকে না। সে করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কথা বলতে শুরু করে। একা একা কথা বললে মানুষ পাগল বলে তাই নানির কথা বলার জন্য একজন মানুষ দরকার। আশপাশে কেউ থাকলেই নানি কথা বলতে শুরু করে, সেই মানুষটা তার কথা শুনছে কি না, নানির সেটা নিয়ে কোনাে মাথাব্যথা থাকে না। আজকেও নানি কথা বলতে শুরু করল, সেই একই কথা, যেটা আমি একশ বার শুনেছি।

“রঞ্জু। ও রঞ্জু তুই ঠিক করে ক। এই কাজটা কি তাের বাপ-মা ঠিক করল? আমি বুড়া মানুষ, আমার ঘাড়ে তাের দায়িত্ব দিয়া তাের বাপ-মা দুইজন চইলা গেল? কাজটা কি ঠিক হইল?”

আমি কোনাে কথা না বলে খেতে থাকি। নানি আসলে আমার মুখ থেকে কোনাে উত্তর শুনতে চায় না, এমনিই বলে।

“আমি তাের বাপরে বললাম, দিনটা ভালাে ঠেকে না। মনের মাঝে কু-ডাক দেয়। বাবা আজকে না গেলে হয় না? তাের বাপ হাসে। বলে। আম্মাজান কুনাে ভয় নাই। আপনার মেয়ের দায়িত্ব আমার। বুকে থাবা দেয় আর কয়, শরীলে যতক্ষণ দম আছে আপনার মেয়ের কিছু হতে দিমু। তা কথা মিছা কয় নাই।”

নানি তার আঙুলের ডগায় লাগানাে চুন জিবের ডগায় লাগিয়ে বিড়বিড় করে বলল, “শরীলে যতক্ষণ দম ছিল তাের মায়ের কিছু হইতে দেয় নাই। যখন দম শেষ তাের বাপ। তাের মাও শেষ। রাক্ষুসী কালী গাং তাের মুখে আগুন তাের চৌদ্দ মুখে আগুন তুই জাহান্নামে যা, হাবিয়া উঠে তুই মর, তুই নির্বংশ হ, তাের বংশে বাতি দেওয়ার জন্য যেন কেউ না থাকে নানি এমন ভাবে কালী গাংকে অভিশাপ দিতে থাকে, যেন সেটা একজন মানুষ। গ্রামের নাম কাকনডুবি pdf download link! 

নানির কাছে শুনেছি আমার বাবা-মা কালী গাংয়ে ডুবে মারা গেছে, নৌকা নিয়ে যাচ্ছিল, হঠাৎ একটা ঝড় উঠেছে, কিছু বােঝার আগে নৌকাটা পাক খেয়ে ডুবে গেছে। আমি ছােট, নানির কাছে ছিলাম বলে বেঁচে গেছি। বাবা খুব ভালাে সাঁতার জানত, মাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজে বাঁচতে পারে নাই। 

আমার কিছু মনে নাই, বাবা-মায়ের চেহারাও কোনাে দিন দেখি নাই। বাড়িতে তাদের একটা ফটোও নাই। নানি পান চিবুতে চিবুতে একটু এগিয়ে এসে আমার মাথায় হাত দিয়ে বলে, “রঙু, ভাইডি তুই খুব সাবধানে থাকবি। বাপ-মা থাকলে তার দোয়া থাকে। তাের বাপও নাই, মাও নাই। তাের জন্য দোয়া করার কেউ নাই” আমি বললাম, “তুমি দোয়া করবা।”

তাই আর দেরী না করে গ্রামের নাম কাকনডুবি pdf download  বইটি ডাউনলোড করতে নিচের ডাউনলোড বাটন এ ক্লিক করুন। 

Size:- 10MB.

গ্রামের নাম কাকনডুবি pdf download বইটির হার্ড কফি ক্রয় করুন:-        

Boibazar.com | Anamika.com

বইটির রিভিউ দিতে ক্লিক করুন

Tags

ADR Dider

Best bangla pdf download, technologies tips,life style and bool, movie,smartphone reviews site.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Close

Ad blocker detected

Plz turn off your ad blocker to continue in this website...